
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 April 2025 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহলগাম হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে জম্মু-কাশ্মীরের ৮৭টি পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি বন্ধ করে দিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির সতর্কতাবার্তার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ কেন্দ্রীয় এজেন্সিদের সূত্র জানিয়েছে, পহলগামেই থেমে থাকবে না পাক জঙ্গিরা। সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি ভেঙে টানা পাঁচদিন ধরে গোলাগুলি চালিয়ে যাচ্ছে পাক বাহিনী। তাতে অনুমান, গোলাবর্ষণের আড়ালেই জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকী ভারতের হামলার ভয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের অত্যাধুনিক রাডার প্রযুক্তি সিয়ালকোটের কাছে মোতায়েন করে রেখেছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, আইএসআইয়ের ছক অনুযায়ী পাক জঙ্গিরা স্থানীয় জঙ্গিদের সাহায্য নিয়ে নিরাপত্তা রক্ষী, অ-কাশ্মীরি, পুলিশ ও কাশ্মীরি পণ্ডিতদের টার্গেট করতে পারে। তাই পহলগামের মতো ঘটনার মতো হত্যাকাণ্ড যাতে জঙ্গিরা না চালাতে পারে, সেজন্য অধিকাংশ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটনকেন্দ্র আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কাশ্মীরে এখন ভরা পর্যটন মরশুম। যদিও পহলগামের ঘটনার পর কাতারে কাতারে পর্যটকরা কাশ্মীর ছেড়েছেন। ২২ এপ্রিলের পর বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীর প্রায় পর্যটকশূন্য। দেশের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি আড়ি পেতে বার্তা ডিকোড করে জানতে পেরেছে যে, পহলগামের পর কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি আত্মগোপন করে থাকা গোষ্ঠী হঠাৎই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে পাক প্রশিক্ষিত আত্মঘাতী মুজাহিদিন জঙ্গিও রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানিয়েছে, জঙ্গিদের পরিচালনশক্তি পাক চর সংস্থা আইএসআই ফন্দি এঁটেছে, ভারত সরকার যখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করতে ব্যস্ত, তখন ফের হামলা করে নয়াদিল্লির প্ল্যান ভেস্তে দিতে হবে। এবারও তারা স্থানীয়দের সহানুভূতি হারাতে না চেয়ে অ-কাশ্মীরি, হিন্দু পণ্ডিত এবং সরকারি কর্মীদের টার্গেট করতে পারে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, কাশ্মীরের রেলওয়ে পরিকাঠামোতেও হামলা চালিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট করার ছক কষেছে আইএসআই। এই মুহূর্তে রেলওয়ে নির্মাণকাজের জন্য কয়েক শো অ-কাশ্মীরি সেখানে রয়েছেন। ভারতের তরফেও জঙ্গি হামলা ঠেকাতে একটি ফিদায়েঁ-রোধী বাহিনী গড়া হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ থেকে প্রাথমিকভাবে লোক নিয়োগ করে গুলমার্গ, সোনমার্গ ও ডাল লেকের কাছে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে।