প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 15 December 2024 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজ করতে একেবারেই ভাল লাগত না। বারবার চেষ্টা করেও কাজ ছাড়তে পারেননি। মালিক বাবার বন্ধু হওয়ায় মুখ বুজে সব মেনে কাজ চালিয়ে গেছেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিনই বাড়ছিল মানসিক চাপ। সেখান থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যুবক। বাম হাতের চার-চারটি আঙুলই কেটে ফেলেন। শুনতে অবাক লাগলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে গুজরাটের সুরাতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সুরাতের বাসিন্দা ওই যুবকের বয়স ৩২ বছর। তিনি আমরোলির একটি গয়নার দোকানে কম্পিউটারে হিসাব রাখার কাজ করতেন। বেতনও ছিল মোটা অঙ্কের। মাস শেষে ৫০ হাজার টাকা আয় হলেও মানসিক শান্তি একেবারেই ছিল না। সে কারণেই কাজ ছাড়তে চেয়ে বাধ্য হয়েই নিজের বাম হাতের চারটি আঙুল উড়িয়ে দিয়েছেন যুবক। যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব পুলিশ। বাড়ি গিয়ে বিষয়টি দেখাতেই রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়।
জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর আমরোলি পুলিশকে যুবক জানায়, বেদান্ত সার্কেলের কাছে তাঁর উপর কয়েকজন দুষ্কৃতী হামলা করে। তারাই এমন ঘটনার জন্য দায়ী। তবে পুলিশের খটকা লাগে অন্য জায়গায়। যুবকের বাইক, টাকা, মোবাইল সব ঠিক থাকলেও তাঁর আঙুল গুলো কেন এভাবে কেটে নেওয়া হল তা নিয়ে উঠছিল প্রশ্ন। অন্যদিকে চারটে কাটা আঙুলও উধাও হয়ে গেছিল।
পরে পুলিশ পেশায় কম্পিউটার অপারেটর যুবককে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। তিনি জানান, কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজের আঙুল তিনি নিজেই কেটেছেন। বাবা, মায়ের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও একটি দুবছরের মেয়েও আছে। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছিল ততই মানসিক চাপ বাড়ছিল।
এদিকে বাবা মালিকের বন্ধু হওয়ায় বিষয়টি খোলসা করে বলতেও পারেননি তিনি। সে কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। আঙুল কাটার জন্য স্টেইনলেস স্টিলের ছুরিও কিনেছিলেন। যদিও প্রথমে কাঁটা আঙুল উদ্ধার না হলেও পরে পুলিশ স্নিফার ডগ দিয়ে সেগুলি উদ্ধার করে।
বর্তমান সময়ে বেসরকারি সেক্টরগুলিতে যেভাবে কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। কাজের চাপ থেকে বাঁচতে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন এমন ঘটনাও সামনে আসছে। তাঁর মধ্যে গুজরাটের যুবকের এমন কাণ্ডে শোরগোল পড়ে গেছে।