
শেষ আপডেট: 9 December 2023 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবারই ২০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারপরও এখনও থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল, যা গোণা হয়নি। শনিবার সকাল পর্যন্ত ধরলে টাকার অঙ্ক ২৯০ কোটি ছাড়িয়েছে। আয়কর দফতরের আধিকারিকদের কথায়, এখনও যা টাকা আছে, তাতে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক কোথায় গিয়ে শেষ হবে তা বলা মুশকিল!
গত বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেস সাংসদ ধীরজ শাহুর অফিসে আয়কর দফতরের আধিকারিকরা হানা দেন। শুধু ঝাড়খণ্ড নয় ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক অফিসে আয়কর দফতর তল্লাশি অভিযান চালায়। জানা গেছে, এই সব অফিসের সঙ্গেই যোগ আছে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদের। অফিসের আলমারিগুলোতে শুধুই রাশি রাশি টাকা।
স্থানীয় ব্যাঙ্ক থেকে মেশিন আনিয়ে টাকা গোনা শুরু হয়। বিপুল পরিমাণ টাকা গুণতে গিয়ে মাঝপথে একটি মেশিন খারাপ হয়ে যায়। ফের নতুন মেশিন এনে গোণা শুরু করা হয়। শুক্রবার দুপুরে আয়কর দফতর জানিয়েছিল, নগদ টাকার পরিমাণ দুশো কোটি। সাংসদ ও তাঁর অফিস কর্মীরা টাকার উৎস জানাতে পারেননি। ওই টাকার জন্য সাংসদ আয়কর জমা দেননি। উৎস উল্লেখ না করায় সরকারিভাবে ওই অর্থ কালো টাকা হিসাবে গণ্য হবে।
তবে শুক্রবার পেরিয়ে শনিবারও টাকা গোণা শেষ হচ্ছে না। এর আগে ভারতে এত বড় তল্লাশি অভিযান হয়েছে কিনা সন্দেহ। শনিবার কংগ্রেস সাংসদের বাড়ি থেকে বস্তা ভর্তি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই টাকা গোণার কাজ চলছে।
আয়কর দফতর সূত্রে খবর, কংগ্রেস সাংসদ ধীরজ সাহুর রাঁচির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিন ব্যাগ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর সহকারীর বাড়ি থেকেও বিপল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, আধিকারিকদের কথায়, এখনও আরও তিনটি জায়গার সাতটি ঘর ও ন'টি লকার চেক করা হয়নি। সেখান থেকে টাকা উদ্ধার হতে পারে বলে অনুমান করছে আয়কর দফতর। শুধু টাকা নয় গহনাও উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
বৌধ ডিস্টিলারিজ প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থায় প্রথমে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল আয়কর দফতর। সেখান থেকেই সাহু উনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেড নামে এক সংস্থার সন্ধান মেলে। দু'জায়গা থেকেই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সেইসঙ্গে আরও অনেক জায়গার খোঁজ মেলে।
টাকা উদ্ধারের কথা জানার পরই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি লেখেন, 'দেশবাসীর এই খবরটি দেখা উচিৎ। এই টাকা সাধারণ মানুষকে ফেরানো হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।'