
সম্মানিত পাঁচ অফিসার।
শেষ আপডেট: 27 January 2025 00:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জম্মু-কাশ্মীরের দুটি পৃথক অভিযানে সাহসিকতার জন্য ভারতীয় সেনার দুই অফিসারকে কীর্তি চক্রে সম্মানিত করার করার কথা ঘোষণা করেছেন। এই বছর ৯৩ জন সশস্ত্র বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর কর্মীকে বীরত্বের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ১১ জনকে দেওয়া হচ্ছে মরণোত্তর সম্মান।
কীর্তি চক্র, যা ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কার, তা পেয়েছেন মেজর মনজিৎ (২২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস) এবং মরণোত্তরভাবে পেয়েছেন নায়েক দিলাওয়ার খান (২৮ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস)। তাঁরা যথাক্রমে সোপোর এবং কুপওয়ারা জেলায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
শৌর্য চক্র, ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ১৪ জন নিরাপত্তারক্ষীকে। এর মধ্যে ৯ জন সেনাবাহিনীর, ২ জন বায়ুসেনার, ১ জন বর্ডার রোডস ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (BRDB) এবং ২ জন সিআরপিএফ-এর কর্মী।
মেজর মনজিৎ: পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সাহসী অফিসার
গত বছরের ২৫ এপ্রিল সোপোর জেলার একটি গ্রামে সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশের খবর পেয়ে মেজর মনজিৎ তাদের গতিবিধি নজরে রেখে সম্ভাব্য লক্ষ্যে অভিযান চালান।
রাতভর সন্ত্রাসবাদীরা কর্ডন ভাঙার চেষ্টা করে। পরের দিন ভোরে এক সন্ত্রাসবাদী স্থানীয় এক বাগানে ঢুকে পড়ে। মেজর মনজিৎ কৌশলে বাগানের দিকে এগিয়ে গিয়ে সন্ত্রাসবাদীকে আটকে ফেলেন এবং একটি গোয়ালঘরে আটকে থাকা দুই শিশু ও এক মহিলাকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
ভারী গুলিবর্ষণের মুখেও মেজর মনজিৎ সন্ত্রাসবাদীর দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে মোকাবিলা করেন। সন্ত্রাসবাদী গ্রেনেড নিক্ষেপের চেষ্টা করলে, মেজর তাকে গুলি করে হত্যা করেন।
নায়েক দিলাওয়ার খান: লোলাব উপত্যকায় বীরত্বের উদাহরণ
গত বছরের ২৩ জুলাই লোলাব উপত্যকার গভীর জঙ্গলে নায়েক দিলাওয়ার খান এক অভিযানে অংশ নেন। মধ্যরাতে দুই সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে মোকাবিলা করেন নায়েক দিলওয়ার খান। গুলির লড়াই শুরু হলে এক সন্ত্রাসবাদী তার দিকে এগিয়ে আসে।
নায়েক দিলাওয়ার খান নিজেকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদীকে নিবৃত্ত করেন এবং হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাটে তাকে হত্যা করেন। দুর্ভাগ্যবশত, এই লড়াইয়ে প্রাণ হারান দিলাওয়ার।
মণিপুরে সাহসিকতা: শৌর্য চক্রে ভূষিত দুই সেনা
অসম রাইফেলসের সহকারী কমান্ড্যান্ট ইশেনথুং কিকন এবং জাঠ রেজিমেন্টের সুবেদার মোহন রাম মণিপুরের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বীরত্বের জন্য শৌর্য চক্র পেয়েছেন।
সহকারী কমান্ড্যান্ট কিকন এক অভিযানে ১২ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে আটক করে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করেন। অপরদিকে, সুবেদার মোহন রাম প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ৩৮ জন গ্রামবাসীকে উদ্ধার করেন, যদিও নিজেই গুলিবিদ্ধ হন।
বায়ুসেনার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অমন সিং হান্স: বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপে বিপর্যয় রোধ
মার্চ ২০২৪-এ ‘গগন শক্তি’ মহড়ার সময়ে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অমন সিং হান্স মিগ-২৯ উড়ানের মাঝপথে সংকটে পড়ে। প্লেনের ককপিট খুলে যাওয়ার পরেও তিনি নিজের বুদ্ধি ও দক্ষতায় বিমানটি সুরক্ষিতভাবে অবতরণ করান। তাঁর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ শুধু বিমান রক্ষা করেনি, পাশাপাশি অসামরিক সম্পত্তির ক্ষতি রোধ করে।
বীরত্বের এই অসামান্য কাহিনিগুলি শুধু তাদের সাহসিকতার উদাহরণ নয়, বরং জাতির গর্বও।