
নিটকাণ্ডে চলছে প্রতিবাদ
শেষ আপডেট: 20 July 2024 23:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিটকাণ্ডে গত মঙ্গলবার সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন এক ইঞ্জিনিয়ার এবং তাঁর সহযোগী। এবার দুই ডাক্তারি পড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হল। সিবিআই মনে করছে, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল কান্ডারি এরাই।
শনিবারের এই গ্রেফতারির পর নিটকাণ্ডে মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১। মোট ছ'টি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। যে দু'জন ডাক্তারি পড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা রাজস্থানের ভরতপুরের একটি মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করে। এদের নাম কুমার মঙ্গলম এবং দীপেন্দর শর্মা।
সিবিআই জানতে পেরেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড বলে যাকে ধরা হচ্ছে সেই পঙ্কজ কুমারের চুরি করা প্রশ্নপত্রের উত্তর লিখে দিয়েছিল এই দু'জন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে, গত ৫ মে যখন সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা হয়েছিল, তখন কুমার এবং দীপেন্দর ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে ছিল। সেখান থেকেই মূলত প্রশ্নফাঁস হয়েছে বলে অনুমান।
বিহারের হাজারিবাগের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র অফিস থেকে পঙ্কজ কুমার এবং রাজু সিং নিটের প্রশ্নপত্র চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। এর মধ্যে পঙ্কজকে গ্রেফতার করা হয়েছে পাটনা থেকে, রাজু গ্রেফতার হয়েছেন জামশেদপুর থেকে। সিবিআই সূত্রে খবর, পঙ্কজ প্রশ্নপত্র চুরি করার পর তা দিয়েছিলেন রাজুকে। তিনিই সেগুলি স্থানীয় এলাকায় ছড়িয়ে দেন। এই পঙ্কজই ২০১৭ সালে জামশেদপুরের এনআইটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছিলেন।
গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, প্রশ্নপত্রের ৯টি সেট চুরি করে বিভিন্ন সেন্টারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে কার্যত সিবিআই-এর উল্টো কথাই বলেছে এনটিএ। তাঁরা শীর্ষ আদালতে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, কোথাও কোনও ট্রাঙ্ক থেকে প্রশ্নপত্র গায়েব হয়নি। তাই পুনরায় পরীক্ষা হওয়ার কোনও অর্থ নেই। সুপ্রিম কোর্টও অবশ্য এই বিষয়টি নিয়ে ধন্দে আছে।
সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিটের প্রশ্নফাঁসের কারণে বড় পরিসরে যদি প্রভাব পড়ে তাহলেই একমাত্র পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। যদি এমন দেখা যায় যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য পুরো পরীক্ষাই প্রভাবিত হয়েছে তখন নিট ইউজি পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি আবার পরীক্ষা করানোর কথা ভাবা যেতে পারে।