২০১৬ সালে তেজস প্রথম যুক্ত হয় বায়ুসেনার ‘ফ্লাইং ড্যাগার্স’ - ৪৫ নম্বর স্কোয়াড্রনে। আকারে ছোট আর ওজনে হালকা হওয়ায় এটি একই শ্রেণির অন্যান্য যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেকটাই চটপটে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 November 2025 19:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুবাইয়ে এয়ারশো (Dubai Airshow) চলাকালীন তেজস যুদ্ধবিমান (Tejas Fighter Jet) ভেঙে পড়ে পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। 'ব্যারেল রোল' স্টান্ট (Barrel Stunt) করার সময় উড়ানের মাঝেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে ভেঙে পড়ে সেটি। ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) পরে নিশ্চিত করে যে, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানটির পাইলট। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এত উচ্চমানের নিরাপত্তা রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভেঙে পড়ল তেজস?
দুঃখজনক এই দুর্ঘটনার মধ্যেও তেজসের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও উন্নয়নের ইতিহাস ফের আলোচনায় এসেছে। কারণ ভারতীয় প্রতিরক্ষা শক্তির অন্যতম প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে স্বদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি এই লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (Light Combat Aircraft)।
তেজস: দীর্ঘ গবেষণা ও উন্নয়নের ফসল
তেজস (Tejas) এক আসনের যুদ্ধবিমান হলেও প্রশিক্ষণের জন্য বিমান বাহিনী দ্বি-আসনের ভ্যারিয়েন্টও ব্যবহার করে। ভারতীয় নৌবাহিনীও (Indian Navy) একই দ্বি-আসনের সংস্করণে ভরসা রাখে। এর প্রথম TD-1 মডেলের পরীক্ষামূলক উড়ান হয়েছিল ২০০১ সালে। পরে ২০১৬ সালের ২২ মার্চ আকাশে ওঠে SP-2 সিরিজের সেই তেজস, যা ইনিশিয়াল অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (IOC) মানদণ্ডে তৈরি।
একক পাইলটের ব্যবহারের উপযোগী এই বিমান বহন করতে পারে ৪,০০০ কেজি পর্যন্ত অস্ত্র ও পে-লোড। উড়ানের সময় সর্বোচ্চ ওজন ১৩,৩০০ কেজি - এমন একটি বিমানকে এত হালকা রাখতে সক্ষম হয়েছিল ডিজাইনের কৌশল ও কম্পোজিট স্ট্রাকচারের ব্যাপক ব্যবহার।
তেজসকে ৪.৫-জেনারেশনের যুদ্ধবিমান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। আকাশে আক্রমণাত্মক অপারেশন হোক বা স্থলবাহিনীকে কাছাকাছি থেকে সহায়তা - দুই ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য। এর দ্রুত ল্যান্ড করার ক্ষমতা, চটপটে গতিবিধি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার উন্নতি তেজসকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
২০১৬ সালে তেজস প্রথম যুক্ত হয় বায়ুসেনার ‘ফ্লাইং ড্যাগার্স’ - ৪৫ নম্বর স্কোয়াড্রনে। আকারে ছোট আর ওজনে হালকা হওয়ায় এটি একই শ্রেণির অন্যান্য যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেকটাই চটপটে।
এই বিমানকে ঘিরে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতি বড়সড় গতি পেয়েছে এ বছর। অগস্টে কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন দিয়েছে আরও ৯৭টি তেজস মার্ক-১এ কেনার প্রকল্পে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে এটি এক ঐতিহাসিক ধাপ, যা বায়ুসেনার শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের ভবিষ্যৎকেও স্থিতিশীল করবে।
দুবাই বিপর্যয় কীভাবে?
বায়ুসেনার প্রাক্তন পাইলটসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ঠিক আগে ওই পাইলট ‘ব্যারেল রোল’ (Barrel Roll) নামে পরিচিত একটি স্টান্ট করছিলেন। এই কৌশলে বিমানটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যেতে পুরো উল্টো ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। একসময় উল্টো হয়ে আবার সোজা অবস্থানে ফিরে আসে সেটি। আপাতদৃষ্টিতে কঠিন নয়, তবে প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে করতে হয়।
ভিডিও ফুটেজ দেখে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ‘ব্যারেল রোল’ (Barrel Roll) সম্পূর্ণ করার সময় কোথাও না কোথাও ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে তেজস যুদ্ধবিমানের নাক নিচু অবস্থাতেই তা দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে, পাইলট আর সেটি উদ্ধার করতে পারেননি।
তেজসের (Tejas) এটি গত ২৪ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানের জয়সালমেরে ভেঙে পড়েছিল একটি তেজস। সেই প্রথম দুর্ঘটনা ছিল ২০০১ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান থেকে ২৩ বছরের ইতিহাসে। তখন পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন।