
শেষ আপডেট: 27 October 2023 10:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্ভাবনা ছিলই। তা সত্যিও হল। বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে জম্মু-কাশ্মীরের আর্নিয়া সেক্টর ও আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর অতর্কিতে হামলা চালাল পাকিস্তানের বাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর পাঁচটি ভারতীয় সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে পাক সেনা। রাতভর নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাবর্ষণ করেছে। পাক হামলায় ভারতের দুই বিএসএফ জওয়ান জখম হয়েছে। তাছাড়া সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন সাধারণ বাসিন্দার জখম হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
বিএসএফ জানিয়েছে, গতকাল রাত ৮টা নাগাদ আর্নিয়া সেক্টরে আচমকা গোলাগুলি ছোড়া শুরু করেছিল পাকিস্তানি সেনা। আরএস পুরা সেক্টরের আর্নিয়া এলাকায়, বিএসএফ-এর একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে অতর্কিতে গোলা-বর্ষণ শুরু করে পাকিস্তানি রেঞ্জার্সরা। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনীও। দুপক্ষের গুলির লড়াই চলেছে রাতভর। দুই বিএসএফ জওয়ানের জখম হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজন গ্রামবাসীও জখম হয়েছেন গুলির লড়াইয়ে। তবে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গেছে।
বিএসএফের গুলিতে পাকিস্তানি সেনা ঘাঁটির কতটা ক্ষতি হয়েছে, রাতের অন্ধকারে তা বোঝা যায়নি। বিএসএফ-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
সেনা সূত্র বলছে, গত কয়েকদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণরেখার আশপাশে পাক সেনার অধিক সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টাও হয় নিয়ন্ত্রণরেখায়। পাঁচ লস্কর জঙ্গিকে নিকেশও করেছে ভারতীয় বাহিনী। শুধু সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করেই নয়, সীমান্তবর্তী বসতি এলাকাগুলি লক্ষ্য করেও পাক সেনা মর্টার হামলা চালিয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। আর্নিয়া, সুচেতগড়, সিয়া, জাবোয়াল এবং ত্রেভা এলাকায় মুহূর্মুহূ গোলা বর্ষণ হয়েছে। এই অতর্কিত হামলায় জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি থেকে লোকজন ভয়ে পালাতে শুরু করে। রাতের বেলাতেই বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে, গত ১০ দিনের মধ্যে, এই নিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় দ্বিতীয়বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করল পাকিস্তান। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই পাক সেনা নিরীহ গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। পাকিস্তানকেও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানকে শত হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেও তাদের টনক নড়েনি। সন্ত্রাস বন্ধ করার জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে পাকিস্তানকে। এরপরেও একই কাজ করে যাচ্ছে তারা। উপত্যকার জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, রাজৌরি-পুঞ্চ এবং কুপওয়ার-কেরান সেক্টরে দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি ঢোকানোর ছক কষছে লস্কর এবং জইশ গোষ্ঠী।