
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জিকা ভাইরাস (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 1 July 2024 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের চাগাড় দিয়েছে জিকার আতঙ্ক। এবার পুনেতে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার এক গর্ভবতী মহিলা। এই নিয়ে গত ১০ দিনে ৫ জন জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। মশাবাহিত এই রোগ ছড়ানোয় পুনের ইরান্ডওয়ানে এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি ইরান্ডওয়ানেতে দু’জনের শরীরে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। সম্প্রতি তিন জন গর্ভবতী মহিলার শরীরে জিকার প্রাখমিক লক্ষণ চোখে পড়ে। এরপরই ওই এলাকায় তৎপর হয়ে ওঠেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা। তাঁদের রক্তের নমুনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখান থেকেই জানা যায়, তিনজনের মধ্যে একজন গর্ভবতী মহিলা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত। ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ওই মহিলার চিকিৎসা চলছে। গোটা এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়ায় জিকা ভাইরাস। সাধারণত জিকা কোনও গুরুতর সমস্যা তৈরি করে না, তবে কোনও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিপদজ্জনক। কারণ এই ভাইরাসে সংক্রামিত হলে ভ্রূণের মাইক্রোসেফালি অর্থাৎ শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হয়ে যাতে পারে। অসম্পূর্ণ মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু। এদিকে মশাবাহিত এই রোগের সেভাবে কোনও চিকিৎসা না থাকায় চিন্তায় স্বাস্থ্য কর্তারা।
জিকা একটি মশাবাহিত রোগের ভাইরাস। এই ভাইরাস সাধারণত এডিস মশা থেকে ছড়ায়। চিকিৎসকরা বলছেন, যৌনসম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে সংক্রমণ। এই ভাইরাসের অন্যতম উপসর্গ জ্বর। জানা গেছে, ৮০ শতাংশের বেশি জিকা ভাইরাস আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে প্রথম উপসর্গই জ্বর। এছাড়াও শরীরে ব়্যাশ দেখতে পাওয়া যায়। কারও কারও আবার শ্বাসকষ্টও হয়।
২০২২ সাল থেকেই বর্ষার সময়ে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। প্রধানত দক্ষিণের রাজ্যে ছড়িয়েছিল এই ভাইরাস। গত বছরে ফের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলে মহারাষ্ট্র থেকে। এবারেও বর্ষার মুখে খবর মিলল নতুন সংক্রমণের, যা যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে চিকিৎসা মহলের।