
মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং
শেষ আপডেট: 19 November 2024 08:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের চলতি হিংসাত্মক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দলের সব মন্ত্রী ও বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোয় হওয়া সেই বৈঠকে দলের ৪৫ জন বিধায়কের মধ্যে ১৮ জন অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের একজন মন্ত্রী।
এদিকে, মণিপুরের হিংসা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপির অভিভাবক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ। সংগঠনে মণিপুর প্রান্ত শাখা এক বিবৃতিতে বলেছে, গত বছরের ৩ মে থেকে ১৯ মাস হয়ে গেল মণিপুর অশান্ত। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উচিত আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এককদম এগিয়ে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন বিদ্যার্থী পরিষদ বলেছে, মণিপুরের পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ। ঘটনা চক্রে মণিপুরে ২০১৬ সাল থেকে ডবল ইঞ্জিন অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির সরকার ক্ষমতায়।
দু’দিন আগেই বিজেপির জোটসঙ্গী ন্যাশনাল পিপলস পার্টি সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এনপিপি-র বিধায়ক সংখ্যা সাত। ওই দলের সমর্থন প্রত্যাহারের পরেও এন বীরেন সিংয়ের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মাথায় দেখা যাচ্ছে দলেও অনাস্থার মুখে পড়েছেন বীরেন।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বীরেনের সোমবার রাতের বৈঠকের আগে শিলংয়ে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী করনাড সাংমা বলেন, ‘মণিপুরে ক্যাপ্টেন (মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং) বদলানো ছাড়া উপায় নেই। নতুন ক্যাপ্টেন এলে রাজ্যে শান্তি ফিরতে পারে।’ অর্থাৎ তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দেন পদ্ম শিবিরকে নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। আপত্তি মুখ্যমন্ত্রী বীরেনকে নিয়ে। তাঁকে সরিয়ে দিলে এনপিপি-র সাত বিধায়ক মণিপুরে বিজেপি সরকারের পাশেই থাকবে।
এরপরই দেখা যায় বীরেনের বৈঠকে দলের ১৮ জন বিধায়ক অনুপস্থিতি। তাঁদের একজন মন্ত্রী। অনুপস্থিতি বিধায়কেরা অসুস্থতার কথা বলায় রাজনৈতিক মহল মনে করছে এটা পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। তাদের পিছনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাত আছে কি না স্পষ্ট নয়। অনুপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে ১০জন কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত। গত বছরের ৩ মে থেকে মণিপুরে মৈতেই ও কুকিদের মধ্যে জাতি সংঘর্ষ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী কুকিদের আস্থা হারিয়েছেন, অনুপস্থিত থেকে বিধায়কেরা সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বীরেন নিজে মৈতেই। তাঁর বিরুদ্ধে কুকিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে।
এরই মধ্যে লক্ষ্যণীয়, সোমবার বিকালে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লিতে মণিপুর নিয়ে যে বৈঠক করেন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বীরেনকে ডাকা হয়নি। রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা যাঁকে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়োগ করেছে, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে শাহ মণিপুরে আরও পাঁচ হাজার আধা সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন। বিরোধীদের অভিযোগ, বীরেনকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই আড়াল করে চলেছেন। যদিও সোমবারের বৈঠকে বীরেনকে না ডেকে শাহ মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি বিরক্তি, অনাস্থা প্রকাশ করলেন কি না তা নিয়েও বিজেপির অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, ইম্ফলে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে বীরেন সিং এক্স হ্যান্ডেলে বলেছেন, রাজ্যের চলমান হিংসার তীব্র নিন্দা করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে বৈঠকে। এছাড়া কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী-বিধায়কেরা।