সরকারি কর্মীদের দাঁড়িয়ে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
শেষ আপডেট: 17 December 2024 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি অফিসে গিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির ঘটনা একেবারেই নতুন কিছু নয়। সে যুবক-যুবতীই হোন বা বয়স্ক মানুষজন। ইচ্ছে থাকলেও চট করে কাজ সেরে বেরিয়ে আসার সাধ্য নেই। কিন্তু এবার এক অবাক কাণ্ড ঘটেছে। এমন কাজ যারা করেন তাঁরাই ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই শাস্তিও পেতে হয়েছে তাঁদের।
নয়ডার সরকারি অফিসের ঘটনা। জানা যায় এক প্রবীণ দম্পতি তাঁদের ফাইল পাস করাতে এসেছিলেন। এক জায়গা থেকে অপর জায়গাতে দৌড়ে বেড়ালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাঁদের। ২০ মিনিট ঠায়ে দাঁড় করিয়ে রাখার পরেও পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আজ কাজ হবে না। অন্যদিন আসুন। বিষয়টি নজরে আসে নয়ডার সিইও-র।
বয়স্ক দম্পতির দুর্দশা সিসিটিভিতে দেখে তিনি রীতিমতো বিরক্ত হয়ে সমস্ত কর্মচারীকে শাস্তি দেন। কাজ চলাকালীন ১৬ জন কর্মীকে ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মীদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানুষের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন বলে জানান।
ইতিমধ্যে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। মুহূর্তে সরকারি অফিসের কর্মীদের এমন শাস্তি পেতে দেখে অনেকেই যেমন বিষয়টির প্রশংসা করেছেন, তেমনই অনেকেই একটু নাক উঁচুও করেছেন।
নিউ ওখলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির অফিসে প্রায় ৬৫টি ক্যামেরা ইতিমধ্যে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই নয়ডার শয়ে শয়ে মানুষ সেখানে যান। সিইও ২০০৫ ব্যাচের একজন আইএএস অফিসার। যিনি গত বছর নয়ডার দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার কর্মীদের বারণ করেছিলেন প্রবীণ নাগরিকদের যেন বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়।
সোমবার বিষয়টি নজরে আসতেই ক্ষেপে যান তিনি। দম্পতিকে ২০ মিনিটের বেশি সময় কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজেই সেখানে চলে যান। এরপর কাউন্টারের সমস্ত আধিকারিকদের দাঁড়িয়ে ২০ মিনিট কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুরুষদের পাশাপাশি অনেক মহিলারাই দাঁড়িয়ে কাজ করছেন। তবে সরকারি অফিসে এসে বয়স্ক দম্পতির অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে সে বিষয়টিও উল্লেখ করে একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘এভাবে একজন বয়স্ক দম্পতিকে এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা অন্যায়। ওঁর বাবা-মা হলে এটা পারতেন না।’ আরেকজন লেখেন, ‘একেবারেই ঠিক। সরকারি কর্মচারীরা বোঝেন না মানুষ তাঁদের জন্য নয়। তাঁরা মানুষের জন্য।’
শাস্তির এমন নজির সচারাচর দেখা যায় না। তবে সরকারি কর্মীদের শবক শেখানোয় সেখানকার পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে মত সব মহলের।