
শেষ আপডেট: 23 January 2024 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ১২ দিনেই সাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ৫১ ইঞ্চির রামলালার বিগ্রহের সর্বাঙ্গে সোনা-হিরে-পান্না-চুনির গয়না। রাম মন্দির ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, রামলালাকে পরানো হয়েছে প্রায় ১৫ কেজি সোনা, ১৮ হাজার পান্না ও হিরের গয়না। প্রতিটি গয়নায় চুনি, মুক্তো দিয়ে নকশা করা।
পাঁচ বছরের বালকের আদলে তৈরি রামের বিগ্রহ। প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিন রামলালাকে পরানো হয়েছিল রাজবেশ। সোনার মুকুট, হিরে-মুক্তো খচিত সোনার তীর-ধনুক হাতে। বালক রামকে কী কী গয়না পরানো হবে সে নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। বাল্মিকীর রামায়ণ থেকে রামচরিত মানস, নানা পুরাণ কাব্য পরে গয়নার নকশা ঠিক করা হয়। ৫১ ইঞ্চির রামলালার বিগ্রহ তৈরি হয়েছে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন কালো গ্রানাইট পাথরে। মাথার মুকুট থেকে পায়ের নুপূর—প্রতিটা গয়নাতেই রয়েছে বিশেষত্ব। প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিন রামলালার পরনে ছিল হলুদ রঙের বেনারসি ধুতি। গায়ে লাল পট্টবস্ত্র। তাতে সোনার জরির নকশা করা। লাল পট্টবস্ত্রে সোনার সুতো দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, ময়ূর। আজ থেকে দিন হিসেবে সাজ বদল হবে রামলালার। মঙ্গলবার লাল বস্ত্রে সাজানো হবে রামকে। বুধবার পোশাকের রং হবে সবুজ, বৃহস্পতিবার হলুদ, শুক্রবার হাল্কা হলুদ বা ক্রিম রঙের পোশাক, শনিবার নীল এবং রবিবার গোলাপি রঙের পোশাক পরবেন রামলালা।
মোট ১৪ রকম গয়না পরানো হয়েছে রামলালাকে। মাথার সোনার মুকুট, হিরে ও সোনার তিলক, চার রকম মণিহার, কোমরবন্ধবী, দুই বাহুতে বাহুবন্ধ, দু’হাতের স্বর্ণবালা, কানের দুল এবং আঙুলে বড় সোনা-হিরের আংটি। তাছাড়াও গলায় রয়েছে বিজয়মালা বা বৈজয়ন্তী মালা।
রামলালার সোনার মুকুটে হিরে, চুনি, পান্না দিয়ে নকশা করা। মুকুটের ঠিক মাঝখানে খোদাই করা সোনার সূর্যদেব। ২২ ক্যারাট সোনা দিয়ে তৈরি মুকুটের ওটন দেড় কেজি। মুকুটে ৭৫ ক্যারাট হিরে, ১৭৫ ক্যারাট পান্না ও ২৬২ ক্যারাট চুনি দিয়ে নকশা করা। উত্তর ভারতীয় ঐতিহ্য মেনেই মুকটের নকশা ও কারুকাজ ডিজাইন করা হয়েছে। এই মুকুট শৌর্য-বীর্য ও পবিত্রতার প্রতীক।
রামলালার কালে শোভা পাচ্ছে ১৬ গ্রাম সোনা ও তিন ক্যারাট হিরে দিয়ে তৈরি রাজতিলক। তিলকের মাঝখানে ১০ ক্যারাট হিরে জ্বলজ্বল করছে।
মুকুটের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে তৈরি করা হয়েছে বিগ্রহের কর্ণকুন্ডল। তাতেও হিরে ও চুনি বসানো রয়েছে। কানের দুলের নীচের অংশ চার ক্যারাটের হিরে, ৩৩ ক্যারাটের পান্না দিয়ে ডিজাইন করা। প্রতিটা কর্ণকুণ্ডলের ওজন ৬৫ গ্রাম।
রামলালার গলায় পরানো হয়েছে অর্ধচন্দ্রাকৃতি স্বর্ণহার। এর নাম কান্থা। তাতে বড় বড় চুনি, হিরে, পান্না দিয়ে কারুকাজ করা। ফুলের নকশা ফোটানো হয়েছে তাতে। হারের মাঝে রয়েছে সূর্যদেব। এই হার সৌভাগ্যের প্রতীক। বিগ্রহের গলার সবচেয়ে বড় হারটিকে বলা হচ্ছে বৈজয়ন্তী মালা বা বিজয়মালা। এই গয়না বিজয়ের প্রতীক। রামলালার ঠিক হৃদয়ের কাছে শোভা পাচ্ছে কৌস্তভ মণি। বিষ্ণুর অবতারের গলায় এই মণিহার দেখা যায়। চুনি ও হিরে দিয়ে তৈরি এই মণিহার। কণ্ঠ ও নাভির মাঝে ঝুলছে পাঁচনলি হার। সেটি হিরে ও পান্না দিয়ে কারুকাজ করা। এর নাম পাদিকা। বড় হিরে-পান্না বসানো লকেট রয়েছে তাতে।
কোমর বন্ধনী রয়েছে রামলালার মূর্তিতে। এর নাম কাঞ্চি। যার ওজন ৭৫০ গ্রাম। এটি পবিত্রতার প্রতীক। রামলালার দুই বাহুতে রয়েছে বাহুবন্ধ। সোনার তৈরি বাজুতে বসানো রয়েছে হিরে, চুনি, পান্না। দুই হাতের আঙুলে পরানো হয়েছে হিরে বসানো বিশাল আংটি। দুই হাতেই মোটা স্বর্ণবালা বা কঙ্কন। তাতেও হিরে-চুনি-পান্না বসানো। পায়ে রয়েছে সোনার তৈরি পায়েল বা পঞ্জনিয়া। বাঁ হাতে রয়েছে সোনার ধনুক। ডান হাতে রয়েছে সোনার তীর। তীর-ধনুকেও হিরে, চুনি, পান্না দিয়ে নকশা করা।