
সোমবার লোকসভায় শপথ নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শেষ আপডেট: 24 June 2024 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিট বিতর্কে দেশজুড়ে চলা তোলপাড়ের ঝাপটা এসে লাগল অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম দিনেই। প্রথামতো সোমবার, প্রথম দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ ছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম ঘোষণা হতেই নিম্নকক্ষ জুড়ে 'নিট নিট, শেম, শেম' স্লোগানে জর্জরিত হন তিনি। নিজের আসন ছেড়ে প্রোটেম স্পিকারের আসনের পাশে যাওয়া পর্যন্ত বিরোধী বেঞ্চ থেকে লাগাতার নিট নিয়ে সরকারের অপদার্থতার জন্য তাঁকে দায়ী করা হয়। এই ঘটনা যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার লজ্জাজনক বিষয় তা বুঝিয়ে দেন বিরোধী সদস্যরা।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ইতিমধ্যেই জর্জরিত কেন্দ্র ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কারণ এতবড় কেলেঙ্কারির দায় তিনি এড়াতে পারেন না। বিরোধীদের দাবি, নিট ও নেট-ইউজিসির দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে তাঁকে। কিন্তু, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার কোনও চর্চা নেই।
রাহুল গান্ধী থেকে বিরোধীরা একযোগে নিট-ইউজি ২০২৪ পরীক্ষা ও নেট-ইউজিসি নিয়ে সুর চওড়া করতে শুরু করেছে। লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও সরকারপক্ষকে তীব্র আক্রমণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুরুর দিনে সাধারণত শান্তিতে শপথবাক্য পাঠের পর্ব চলে। কিন্তু, সেই শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম ঘোষণা হতেই।
বিরোধীরা একযোগে তাঁকে উদ্দেশ করে শেম শেম স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁর আসন থেকে পোডিয়াম পর্যন্ত যেতে যতটুকু সময় লেগেছে, ততক্ষণ বিরোধী বেঞ্চ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে লোকসভা কক্ষ।
এদিন সকালেই লোকসভার দরজা খোলার আগে ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেস, তৃণমূল সহ তামাম ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের এমপিরা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ভারতের সংবিধান হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তৃণমূল এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নরেন্দ্র মোদী সরকার সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। আমরা সংবিধান রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। যে পদ্ধতিতে লোকসভার প্রোটেম স্পিকার নিয়োগ করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টত সংবিধানের বিধি এবং অতীতের পরম্পরাকে ভেঙে দিয়েছে বিজেপি।
নিট বিতর্ক নিয়ে এদিন ইন্ডিয়া জোট শরিক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সাংসদ মহুয়া মাঝি বলেন, নিট দেশের সামনে বিরাট জটিল একটা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবিত্তরা বেসরকারি কলেজের খরচ চালাতে পারেন না। তাই সকলেই সরকারি কলেজে পড়তে চান। এই অনিয়মের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী। গোটা প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ব্যর্থতা ও অপদার্থতার জন্য ঘটেছে।