
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 September 2024 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ দিন অন্তর একজন অপরাধীকে গুলি করে হত্যা! গত ৭ বছরে পুলিশের এনকাউন্টারের মোট সংখ্যা ১২ হাজার ৯৬৪! উত্তরপ্রদেশে পুলিশের ট্র্যাক রেকর্ডই জানাচ্ছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, ২০১৭ সালের ২০ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক এনকাউন্টারের দৌলতে রেকর্ড গড়েছে যোগী রাজ্যের পুলিশ। অপরাধীদের পাল্টা প্রতিরোধে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জন পুলিশ কর্মীরও। নিহতের তালিকায় রয়েছে ২০৭ জন কুখ্যাত অপরাধীও।
উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতায় আসার পরই যোগীর সরকার মাফিয়া, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নেয়। রাজ্যকে অপরাধমুক্ত করতে তখন থেকেই ঢালাও ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশ-প্রশাসনকে। তারই নিট ফল উঠে এসেছে সরকারি পরিসংখ্যানে।
পুলিশের দাবি, যাঁদের এনকাউন্টার করা হয়েছে, এদের সকলেই তালিকাভুক্ত চিহ্নিত অপরাধী। অনেকের বিরুদ্ধে আর্থিক মূ্ল্যের ঘোষণা ছিল। উত্তর প্রদেশ পুলিশের ডিজি প্রশান্ত কুমারের দাবি, এনকাউন্টারগুলিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছে, তাই আজ একটি ঘটনা নিয়েও কোনও প্রশ্ন নেই।
প্রশাসন সূত্রের খবর, সবচেয়ে বেশি এনকাউন্টার হয়েে মিরাট জোনে। সেখানে ২০১৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৭২৩টি এনকাউন্টারে ৬৬ জন কুখ্যাত অপরাধীকে হত্যা করা হয় এবং গ্রেফতার করা হয় ৭ হাজার ১৭ জন দুষ্কৃতীকে।
এনকাউন্টারে খতম দুষ্কৃতীদের মধ্যে অনেকেরই বিরুদ্ধে আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও করা হয়েছিল। খতমদের তালিকায় রয়েছে ২জন যাদের প্রত্যেকের মাথার দাম ৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল যোগী সরকার। একইভাবে ধরে দিতে পারলে আড়াই লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল ৪ জনের বিরুদ্ধে।
শুধু স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) নয়, কমিশনারেট এবং জেলাগুলির পুলিশও গুন্ডাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বললে দাবি করেছেন উত্তরপ্রদেশের ডিজি।
প্রসঙ্গত, যোগী রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষকে দুষ্কৃতী সাজিয়ে খুন করার অভিযোগে বারে বারে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সরকারি পরিসংখ্যান সামনে আসার পর তা নিয়ে নতুন করে শোরগোলও তৈরি হয়েছে। তবে ডিজি প্রশান্ত কুমার বলেন, অপরাধীদের বরদাস্ত করার প্রশ্নই ওঠে না, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।