দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকার ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজনের (Amazon) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাদের আইনি প্রতিনিধিরা ভারতের কয়েকজন অফিসাররকে ঘুষ দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিল, দুর্নীতির প্রতি 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হবে। ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আপাতত তদন্ত চালাচ্ছে অ্যামাজন নিজেই। কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসাররা বলেন, "সরকার কোনওরকম দুর্নীতি সহ্য করবে না।" তবে ঠিক কখন ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, কোন রাজ্যের অফিসাররা ঘুষ নিয়েছেন, তা এখনও জানানো হয়নি।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, "আইনি উপদেষ্টাদের ফি বাবদ ২ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে অ্যামাজন। আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে, এত টাকা পেল কারা। মনে হয় তারা ঘুষ দিয়েই ব্যবসা চালিয়েছে।" অনেকে ইতিমধ্যে 'ব্যবসায়ে অসাধুতার জন্য' অ্যামাজনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
'মর্নিং কনটেক্সট' নামে এক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সম্প্রতি অ্যামাজন খবর পায়, তাদের আইনি প্রতিনিধিরা ভারতে কয়েকজন অফিসারকে ঘুষ দিয়েছেন। এরপরে ওই সংস্থা তদন্ত শুরু করে। কোম্পানির এক উচ্চপদস্থ উপদেষ্টা ইতিমধ্যে ছুটিতে গিয়েছেন। সোমবার অ্যামাজন থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কোম্পানির একশ্রেণির কর্মীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানি ব্যাপারটাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। তদন্ত শুরু হয়েছে।
অ্যামাজনের মুখপাত্র ভারতের এক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, "আমরা দুর্নীতি সহ্য করি না। কোনও কর্মী অনৈতিক আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমরা এখনই কোনও অভিযোগ স্বীকার করছি না। তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে তাও বলছি না।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অ্যামাজনের এক কর্মীকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তাঁদের সংস্থা অনৈতিক কার্যকলাপ বরদাস্ত করে না। বিশেষত বিদেশে কাউকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করা হয়। কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে চিঠি লিখে দাবি করা হয়েছে, ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সিবিআই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবেই প্রমাণিত হবে, সরকার দুর্নীতি দূর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ওই ব্যবসায়ী সংগঠন চায়, যে অফিসাররা ঘুষ নিয়েছিলেন, তাঁদের নামগুলি প্রকাশ্যে জানানো হোক। তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে আমেরিকার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান গ্যারি গেনসলারের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে যেন যথাযথ তদন্ত হয়।