দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোম্পানি তাঁকে ৫৮ মিলিয়ন ডলার দিতে চেয়েছিল। তিনি নেননি। প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেছেন, তাঁকে গুগল যা বেতন দেয়, তা যথেষ্ট, আর টাকার দরকার নেই! তিনি হলেন গুগলের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুন্দর পিচাই।
সূত্রের খবর, গুগল তাদের রেস্ট্রিকটেড স্টক (কর্মীদের দেওয়া হয় এমন শেয়ার) অফার করেছিল পিচাইকে। তার পরিমাণ ছিল ৫৮ মিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ টাকার অফার ফিরিয়ে দিয়ে পিচাই বলেছেন, তিনি বেতন হিসেবেই অনেক টাকা পান, আর টাকার প্রয়োজন নেই। তবে সূচ্রের খবর, এই রেস্ট্রিকটেড স্টক পেতে হলে কিছু শর্তাবলী মানতে হয় কর্মীদের। তা ছাড়া, এই পরিমাণ শেয়ার নিলে ভবিষ্যতে তাঁকে অনেক রকম বিতর্কে পড়তে হতে পারে, এই ভাবনা থেকেই গুগলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন পিচাই। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনার শেষ নেই। পিচাই ঠিক কত টাকা ফেরালেন, কেন ফেরালেন, ইত্যাদি নিয়ে চর্চা চলছেই।
২০১৪ সালে গুগলের সেই সময়কার সিইও ল্যারি পেজের কাছ থেকে সংস্থার সর্বোচ্চ ক্ষমতা চলে আসে পিচাইয়ের হাতে। তার পরের বছর ২০১৫ সালেই তাঁকে গুগলের সিইও করা হয়। তখনই তিনি আড়াইশো মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের শেয়ার পান। তার পরে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালেও তাঁকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের স্টক দেয় গুগল। ২০১৬ থেকে পিচাইয়ে বেতন হয় বছরে সাড়ে ৬ লক্ষ ডলার। তার সঙ্গে আছে আরও অনেক সুযোগ সুবিধা।
খড়গপুর আইআইটির ছাত্র পিচাই জন্মসূত্রে তামিল। তিনি ২০০৪ সালে গুগলে যোগ দেন। গুগল ক্রোম ও গুগল ড্রাইভের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রোডাক্ট কার্যত তাঁর হাতেই তৈরি। এর পরে গুগলের আরও দুটি অতি জনপ্রিয় প্রোডাক্ট জি মেল ও গুগল ম্যাপের মূল কাজ তিনিই দেখতেন। সেখানেই শেষ নয়, যুগান্তকারী অ্যানড্রয়েড-এর জন্যও তাঁর টিমের অবদান বিরাট।
পিচাই যত উঁচুতলারই হোন না, ব্যবহারের দিক থেকে তিনি বেশ মাটির কাছাকাছি। তা না হলে অনেক মাইনে পান বলে ৪০৫ কোটি টাকা ফিরিয়ে দিতে কত জন পারে!