দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ষষ্ঠবারের মতো বৈঠকে বসবেন কৃষক ইউনিয়নের নেতারা। তার আগে মঙ্গলবার রাতে কৃষকরা জানালেন, তাঁরা কীভাবে তিনটি কৃষি আইন রদ করা যায় ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাওয়ার ব্যাপারে আইন করা যায়, কেবল তা নিয়েই তাঁরা আলোচনা করবেন। এছাড়া আর কিছু নিয়ে কথা বলতে তাঁরা আগ্রহী নন।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে হাজার হাজার কৃষক দিল্লি সীমান্তে অবস্থান করছেন। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন তিনটি কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে, আইন প্রত্যাহার করা হবে না। তবে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যাপারে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে আইন করতে সরকার রাজি নয়।
৪০ টি কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার তরফে মঙ্গলবার জানানো হয়, সরকারের প্রস্তাব মেনে তারা আলোচনায় বসতে রাজি। তবে তারা আইন প্রত্যাহারের দাবি থেকে কোনওভাবেই সরে আসতে রাজি নয়। গত সপ্তাহে মোর্চা সরকারের প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। কৃষক নেতারা বলেন, "সরকার আমাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে না। আইন প্রত্যাহারের কথা আলোচ্যসূচিতে থাকা উচিত।" আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক কৃষকদের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। কৃষক নেতারা সেই চিঠিতে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁরা বলেন, "সরকার কি আমাদের দাবির কথা জানে না?"
গত শুক্রবার কৃষি আইন নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন আইনে কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। শুক্রবারই মোদী প্রধানমন্ত্রী কিষাণ প্রকল্পে ১৮ হাজার কোটি টাকা দেন।
এর মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কৃষকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, এক বছরের জন্য নতুন আইনগুলি চালু হোক। তারপরে যদি কৃষকদের মনে হয় তাঁদের ক্ষতি হচ্ছে তাহলে আইনে সংশোধনী আনতে তৈরি সরকার।
বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকার তথা মোদীর কড়া সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। কেউ প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করলেই তাঁকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদী। এমনকি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত যদি মোদীর সমালোচনা করেন, তাঁকেও সন্ত্রাসবাদী বলা হবে।