
শেষ আপডেট: 8 April 2022 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আটটা গ্রহ, তাদের দেড়শোর বেশি উপগ্রহ, ছোট বড় ধুমকেতু, উল্কা-- ভরাট সংসার সূর্যের। সে (Space) সংসারে তিন নম্বরে ঠাঁই পেয়েছে আমাদের সুজলা সুফলা এই পৃথিবী। প্রথম আর দ্বিতীয় জায়গা দখলে রয়েছে বুধ, শুক্রের। সূর্যের প্রথম আর দ্বিতীয় গ্রহ। সূর্যের প্রখর তেজের দ্যুতি তাদের কানায় কানায় ভরে রেখেছে নিরন্তর।
মাত্র ৫ কোটি ৮০ লক্ষ কিলোমিটার দূরের বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। শুক্র বা ভেনাস সূর্য থেকে প্রায় ১০ কোটি ৮০ লক্ষ কিলোমিটার দূরে ঘুরছে। কিন্তু সূর্যের আলো বিকিরণের সহজ হিসেব বুধ, শুক্রের ক্ষেত্রে মেলেনি। সূর্যের কাছের বুধ দূরের শুক্রের চেয়ে অনেক বেশি ম্লান। ভেনাস সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল একটা গ্রহ। কেন?
মহাশূন্যের আনাচে কানাচে কতই না খুঁটিনাটি রহস্য লুকিয়ে আছে, তাদের খুঁজে বের করে সেসব রহস্য উদঘাটন করাই বিজ্ঞানীদের কাজ। চোখে টেলিস্কোপ এঁটে গুচ্ছ গুচ্ছ ডায়াগ্রাম, যন্ত্রপাতির সাহায্যে সেই কাজই করে চলেছেন তাঁরা। সেই বিজ্ঞানীরাই বলেন, সূর্যের আলো বুধ আর শুক্রের গায়ে সমানভাবে পড়ে না। এই দুই গ্রহের ঔজ্জ্বল্যও তাই সমান নয়।
বুধ, শুক্রের ঔজ্জ্বল্যের তারতম্যের অন্যতম প্রধান কারণ তাদের আকার। বুধ সূর্যের কাছাকাছি থাকলেও আকারে এটি খুবই ছোট। বুধ বা মার্কারির ব্যাস প্রায় ৩ হাজার ১০০ মাইল। সেখানে শুক্রের ব্যাস তার দ্বিগুণেরও বেশি, ৭ হাজার ৭০০ মাইল। আকারে বড় হওয়ায় শুক্রের উপর সূর্যের আলো এসে পড়ে তুলনায় বেশি।
শুক্র গ্রহের চারদিকে রয়েছে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘন আস্তরণ। এই আবহমণ্ডল সূর্যের আলোকে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেয় সৌরজগতের মাঝে। বুধকে ঘিরে এমন কোনও আবহমণ্ডল নেই। তাই বুধে এসে পড়া সূর্যের আলো সেভাবে বিচ্ছুরিত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে না।
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ ভেনাস। প্রায় প্রতিদিনই তার সঙ্গে পৃথিবীর মানুষের দেখাসাক্ষাৎ হয়। রোজ সন্ধ্যায় পশ্চিমের আকাশে সন্ধ্যাতারা হয়ে জ্বলে শুক্র। আর ভোরবেলা পূবের আকাশে আলো ফোটার আগে দেখা মেলে তার, নাম বদলে তখন সে হয়ে ওঠে শুকতারা। পৃথিবীর এই কাছের গ্রহটাকে পৃথিবীর মানুষ স্বভাবতই সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে দেখে।