
শেষ আপডেট: 26 December 2023 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালবৈশাখীর কখন তুফান তুলবে, ঘূ্র্ণিঝড় কোন পথে আসবে, বজ্রপাতের জায়গাও নিখুঁতভাবে বলে দেবে রেডার। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি আরও ভালভাবে জানতে দুটি অত্যাধুনিক রেডার বসাচ্ছে আলিপুর হাওয়া অফিস। মালদহ ও ডায়মন্ডহারে দুটি রেডার বসানো হবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
আবহাওয়া এখন খামখেয়ালি। কখন ঝড় আসবে আর কখনই বা বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে তুমুল বৃষ্টি নামবে তা বোঝা দায়। জলবায়ু বদলের প্রভাব পড়েছে আবহাওয়ার মতিগতিতেও। তাছাড়া এখন পরপর দু’বছর এল নিনো আসার সম্ভাবনা আছে। কাজেই এই দু’বছর আবহাওয়ায় অনেক বদল আসবে। কখন কেমন থাকবে আবহাওয়া তা আরও ভালভাবে বোঝার জন্যই দুটি আধুনিক রেডার বসানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সঞ্জীববাবু।
রাজ্যে এখন আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার জন্য একটি মাত্র রেডার আছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের এস ব্যান্ডের ওই রেডারটি রয়েছে নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনের ছাদে। পুরনো হলেও সেটি এখনও ভাল কাজ করছে বলে জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস। ৫০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি জানাতে পারে সেই রেডার। কার্যকর। নতুন যে দু’টি রেডার বসানোর জন্য আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই চুক্তি করেছে, সেগুলির রেঞ্জ অবশ্য কম। ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যে এক্স ব্যান্ডের রেডার বসবে, তার রেঞ্জ ১০০-১৫০ কিলোমিটার। এই রেডারটি এক্স-ব্যান্ড পোলারিমেট্রিক ডপলার রেডার।
মালদহে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা আইসিএআরের অধীনস্থ একটি গবেষণা কেন্দ্রে সি-ব্যান্ডের রেডার বসবে। সেটির রেঞ্জ হবে ৩০০-৩৫০ কিলোমিটার। অর্থাৎ গোটা উত্তরবঙ্গ ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড ও বাংলাদেশের একটা অংশ এর আওতায় চলে আসবে। কাজেই কোথায় বৃষ্টি অক্ষরেখা তৈরি হচ্ছে, কোন কোন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে তা ভালভাবেই জানাতে পারবে ওই রেডার।
আইএমডি-র হিসেব বলছে, বজ্রপাতের ঘটনা সাঙ্ঘাতিকভাবে বেড়েছে ভারতে। এই সময়ের মধ্যে চার লাখের বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত ও ছোট নাগপুর মালভূমি অঞ্চল বজ্রপাতের হটস্পট হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে বজ্রপাতে মৃত্যু বেড়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ যদি বেশি হয় এবং চারপাশে পরিবেশের তাপমাত্রা যদি বাড়ে, তাহলে সেই আর্দ্র ও উত্তপ্ত বায়ু দ্রুতগতিতে ঠান্ডা হয়ে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে। দেখা যায়, বায়ুমণ্ডলের উপরের অংশের তাপমাত্রা নীচের তুলনায় কম থাকে। তাই এই বজ্রগর্ভ মেঘের প্রবাহ নীচ থেকে উপরের দিকে হয়, যাকে বলে থান্ডার ক্লাউড। কখন এই ধরনের বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হবে, কোথায় বজ্রপাতের সম্ভাবনা আছে তাও ধরতে পারে ওই অত্যাধুনিক রেডার।