দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার হরিয়ানার (Hariyana) উপমুখ্যমন্ত্রী দূষ্যন্ত চৌতালার ঝজ্জরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সকালে সেই অনুষ্ঠানস্থলের দিকে এগোতে চেষ্টা করেন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকরা। জলকামান ব্যবহার করে তাঁদের হটাতে চেষ্টা করে পুলিশ।
এক ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, পুরুষ ও মহিলা বিক্ষোভকারীরা পতাকা হাতে এগিয়ে যেতে চাইছেন। তাঁদের আটকানোর জন্য বিরাট সংখ্যক পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থামাতে চেষ্টা করে। তাঁরা পুলিশকে ঠেলে এগোতে চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠলে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শ্যামলাল পুনিয়া কৃষকদের উদ্দেশে আবেদন জানান, "আপনারা গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদ জানান। আমরা আপনাদের ঘরেরই সন্তান। আমাদের ডিউটি করতে বাধা দেবেন না।"
এর আগে ২৮ অগাস্ট হরিয়ানার কারনালে কৃষকদের ওপরে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। লাঠির ঘায়ে আহত হয়েছিলেন সুশীল কাজলা নামে এক কৃষক। পরে তিনি মারা যান। পুলিশ দাবি করে, হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত টুইট করে বলেন, সুশীল কাজলার মৃত্যুর বিচার চাইতে তাঁরা মহাপঞ্চায়েত বসাবেন ও বিক্ষোভ মিছিল করবেন।
মনোহরলাল খট্টরের নির্বাচন কেন্দ্র কারনালে গোলমালের আশঙ্কায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। কারনাল কুরুক্ষেত্র, কাইথাল, জিন্দ এবং পানিপথে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। কারনালের ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত কুমার যাদব শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
কৃষকদের ঠেকানোর জন্য শহরে ৪০ কোম্পানি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। কৃষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পুলিশ। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। কৃষকরা মিছিল করে সরকারি দফতরের দিকে এগোতে থাকেন। পথে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত, যোগেন্দ্র যাদব সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে অবশ্য ছেড়েও দেওয়া হয় তাঁদের। একসময় পুলিশ মিছিলের ওপরে জলকামান ব্যবহার করে। রাতে কৃষকরা সরকারি অফিসগুলির বাইরে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন।
হরিয়ানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজ বলেছিলেন, কৃষকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে পারেন। কিন্তু পুলিশও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কৃষক নেতা গুরনাম সিং চাদুনি বলেন, আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ। এর আগে ৪০ টি কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা করে।
একটি ভিডিও ক্লিপে শোনা যায়, আয়ূষ সিনহা নামে এক আইএএস অফিসার পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছেন, বিক্ষোভকারী কৃষকদের মাথা ফাটিয়ে দিতে হবে। কৃষকরা ওই অফিসারের অপসারণ দাবি করেন।
শেষে সরকার ঘোষণা করে, অভিযুক্ত অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তদন্ত শেষ হবে এক মাসের মধ্যে। সেই সময়ের জন্য ওই অফিসার ছুটিতে থাকবেন। এরপরে কৃষকরা এখনকার মতো আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর কার্যত আয়ুষ সিনহাকেই সমর্থন করেন। তিনি বলেন, "অফিসারের ওই কথাগুলি বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর হতেই হয়।" ওই মন্তব্যে আরও অসন্তুষ্ট হন কৃষকরা। স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব বলেন, "আমরা প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, কোন আইনে মাথা ভেঙে দেওয়ার কথা বলা আছে?"