দ্য ওয়াল ব্যুরো : মধ্যপ্রদেশকে 'ভাল রাজ্য' হিসাবে গড়ে উঠতে গেলে মদ নিষিদ্ধ করতেই হবে। শনিবার এমনই মন্তব্য করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চহ্বন। তাঁর সরকার শীঘ্রই রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ করতে চলেছে। সেই সঙ্গে চহ্বন জানিয়েছেন, মদ্যপায়ীরা যাতে ওই নেশা ত্যাগ করেন, সেজন্য তাঁর সরকার প্রচার চালাবে।
মুখ্যমন্ত্রী এক জনসভায় বলেন, "আমরা মধ্যপ্রদেশকে লিকার ফ্রি স্টেট করতে চাই। শুধু মদ নিষিদ্ধ করলেই এই লক্ষ্যে পৌছানো যাবে না। মানুষ যদি মদ্যপান করে, তাহলে মদ সরবরাহ হবেই। সেজন্য আমরা লিকার ফ্রি ক্যাম্পেন চালাব যাতে মানুষ মদের নেশা ত্যাগ করে।"
একইসঙ্গে চহ্বন ঘোষণা করেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে কাটনি জেলায় প্রতিটি বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, গরিব মানুষকে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হবে। ৩ লক্ষ ২৫ হাজার মানুষ আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাবেন। তাতে গরিবদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর রাজ্যেই প্রথম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা মেয়েদের বিরুদ্ধে অপরাধ করবে, তাঁদের চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া হবে। কাটনি জেলাতেই 'মুসকান অভিযান'-এর মাধ্যমে ৫০ টি মেয়েকে রক্ষা করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রদেশেই গ্রেফতার হন কমেডিয়ান মুনাওয়ার ফারুকি। অভিযোগ, তিনি হিন্দু দেবদেবীদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
ইন্দোরের বিধায়ক মালিনী সিং গৌরের ছেলে একলব্য সিং গৌর অভিযোগ করেন, পাবলিক শো-তে ফারুকি হিন্দু দেবদেবীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ফারুকির পালটা বক্তব্য ছিল, তিনি ওই শো-তে উপস্থিত ছিলেন ঠিকই কিন্তু কোনও মন্তব্য করেননি।
ফারুকির জামিনের আবেদন নাকচ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বলেছিল, এখনও পর্যন্ত যে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে মনে হয়, স্ট্যান্ড আপ কমেডির নামে প্রকাশ্য স্থানে পাবলিক শো-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতের নাগরিকদের একাংশের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের বিচারপতিরা বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেছে, ফারুকি গত ১৮ মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু দেবদেবীদের উদ্দেশে কটূক্তি করে চলেছেন। অনেকেই তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু ফারুকি তাতে বিরত হননি। বিচারপতি বলেন, "প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক কর্তব্য হল ধর্মীয়, ভাষাগত, আঞ্চলিক ও গোষ্ঠীগত সুসম্পর্ক বজায় রাখা।" গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ফারুকিকে জামিন দেয়। শনিবার গভীর রাতে তিনি মুক্তি পান।