দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদের তরফে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হচ্ছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব । রাজ্যের ২৩০ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বীর দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ১৪৪ টিতে। তাঁদের জোটশরিক কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে ৭০ টি আসন। বাম দলগুলি লড়বে ২৯ আসনে। আরজেডির ২৩০ টি আসনের মধ্যে কয়েকটি ছেড়ে দেওয়া হবে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চাকে।
বিরোধীদের এই আসন ভাগাভাগিতে অসন্তুষ্ট হয়েছে ভিআইপি পার্টি নামে একটি ছোট দল। তারা বিরোধী জোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর ভোট হবে বিহারে। ফল প্রকাশিত হবে ১০ নভেম্বর। দেশে করোনা সংকট দেখা দেওয়ার পরে এই প্রথম একটি বড় রাজ্যে ভোট হচ্ছে। শাসক এনডিএ জোটের নেতৃত্বে আছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তিনি চতুর্থবার নির্বাচিত হওয়ার জন্য ভোট চাইবেন।
তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে বিরোধীরা স্থির করেছেন, শাসক জোটকে আক্রমণ করবেন মূলত দু'টি ইস্যুতে। প্রথমত, রাজ্যে করোনা সংকট মোকাবিলা করতে সরকারের 'ব্যর্থতা'। দ্বিতীয়ত 'পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশায় রাজ্য সরকারের ঔদাসীন্য'। এছাড়া রাজ্যে বন্যা ও কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন কৃষি আইন নিয়েও সরকারের কড়া সমালোচনা করছেন বিরোধীরা।
বিহারের ভোট ঘোষণা হতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের টুইটারে ভেসে ওঠে কয়েকটি লাইন। “উঠো বিহারী, করো তৈয়ারি/ জনতা কা শাসন অবকি বারি…”
এরপর লালুর টুইটার হ্যান্ডেল থেকে আরও লেখা হয়, “বিহার মে বদলা হোগা/ আফসার রাজ খতম হোগা/ অব জনতা কা রাজ হোগা”
লালু বোঝাতে চেয়েছেন, বিহারে এবার বদল অনিবার্য। এবং নীতীশ কুমারের সরকার যে মানুষের সরকার নয় তাও উল্লেখ করেছেন ঘুরিয়ে। এবার জনতার সরকার গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। যদিও এই টুইট দেখে অনেকে বলছেন, লালুপ্রসাদের সেই ঝাঁঝ যেন অনেকটাই মিইয়ে গেছে।
বিহারে ভোট হবে অথচ লালু প্রচারে থাকবেন না– এবারই প্রথম সেই ঘটনা ঘটবে। তবে অনেকের মতে, ভোট ঘোষণার দিনে টুইট করিয়ে লালু জানান দিতে চেয়েছেন, তিনি ‘ভিতরে থেকেই’ যা করার করবেন। হতে পারে এবার থেকে নভেম্বরের সাত তারিখ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই হাওয়া গরম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।
করোনা পরিস্থিতিতে এবার বিহারে ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো হয়েছে এক ঘণ্টা। সকাল সাতটা থেকে সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত ভোট হবে বিহারে। কোভিড আক্রান্ত ও সাসপেকটেড রোগীদের ভোট নেওয়া হবে পৃথক ভাবে। যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাঁরা ভোট দিতে পারবেন নির্ধারিত সময়ের পরে। শারীরিক সংযোগ হয় এমন প্রচার প্রক্রিয়ায় জারি করা হয়েছে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। ভোটকর্মীদের ৪৬ লক্ষ মাস্ক, ২৩ লক্ষ গ্লাভস, ৬ লক্ষ পিপিই স্যুট, ৭ লক্ষ ফাইল স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করবে নির্বাচন কমিশন।