দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলার পরে দেশ জুড়ে কাশ্মীরি পড়ুয়াদের উপরে নেমে আসা হামলার প্রতিরোধ করতে হবে। এই আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ১০টি রাজ্যকে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করতে হবে বলে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট।
নির্দেশে বলা রয়েছে, সারা দেশের কোনও প্রান্তে যেন কোনও কাশ্মীরি পড়ুয়া সামাজিক বয়কটের শিকার না হয়। তাদের যেন কোনও ভাবে হেনস্থা না করা হয়, তাদের উপর যেন হামলা নেমে না আসে।
কাশ্মীরিদের নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তারিক আদিব। আদালতকে জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির অনুরোধ করে তিনি জানান, এই আক্রমণ বন্ধ করা প্রয়োজন। মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়ের টুইটের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তথাগত রায় সমস্ত কাশ্মীরি দ্রব্য বয়কটের ডাক দিয়ে টুইট করেন সম্প্রতি। প্রশ্ন ওঠে, একটি রাজ্যের আদালত এ রকম কোনও অবস্থান নিতে পারেন কি না।
https://twitter.com/tathagata2/status/1097779171110068224
প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এ দিন ওই মামলার শুনানিতে বলেন, গণপিটুনি আটকাতে যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, কাশ্মীরের বাসিন্দাদের উপর আক্রমণ ঠেকানোর দায়িত্বও তাঁদেরই হবে।
যে দশটি রাজ্যকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে সেগুলি হল, পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মেঘালয়, ছত্তীসগড়, পঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র।
আদালতে সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ বলে, "কোনও কাশ্মীরিকে বা সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের যে কোনও কাউকেই হুমকি বা হেনস্থা বা বয়কটের অভিযোগ উঠলে রাজ্যের মুখ্যসচিবদের, পুলিশ কমিশনারদের এবং পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।"
আদালতের এই রায়কে অভিবাদন জানিয়ে টুইট করেন কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
https://twitter.com/OmarAbdullah/status/1098821497022439425
সূত্রের খবর, কোথাও শান্তিতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে বা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তকে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। বিভিন্ন রাজ্যে এ বিষয়ে পুলিশের তরফে হেল্পলাইন নম্বর পরিষেবাও চালু হবে বলে জানা গিয়েছে। সিআরপিএফ-কেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে, কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে।
১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সেনাবাহিনীর উপরে জঙ্গি হামলার ঘটনার দিন তিনেক পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রাজ্যগুলিকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, তেমনটা ঘটেনি বাস্তবে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে কাশ্মীরিদের উপর হামলার খবর এসেছে। রক্তাক্ত হয়েছে কাশ্মীরি পড়ুয়ারাও। অত্যাচার চলেছে ব্যবসায়ীদের উপর।
সমাজের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরাও প্রশ্ন তুলেছেন, সামরিক বা কূটনীতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তাতে সাধারণ মানুষের কোনও হাত নেই। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে কাশ্মীরিরা পড়াশোনা করছেন বা চাকরি বা ব্যবসা করছেন, তাঁদের সুরক্ষিত রাখাটাও এই সরকারেরই দায়িত্ব। জঙ্গি মোকাবিলার সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেললে তা দুর্ভাগ্যজনক।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে পরিস্থিতি কতটা বদলায়, সেটাই এখন দেখার।