
শেষ আপডেট: 12 June 2020 18:30
এই গন্ধ না পাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে অ্যানোসমিয়া (Anosmia) । স্বাদ চলে যাওয়া বা স্বাদকোরকের কার্যক্ষমতা চলে যাওয়াকে বলে অ্যাগিউসিয়া (Ageusia)। করোনাভাইরাস মানুষের শ্বাসযন্ত্রকে পুরোপুরি বিকল করে দেওয়ার চেষ্টা করে যার কারণেই তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। গন্ধের অনুভূতি আসে কয়েকটা ধাপে। কোনও বস্তু থেকে নির্গত উপাদান মানুষের শরীরের স্নায়ু কোষকে (Olfactory Cells) উদ্দীপিত করে। স্নায়ু কোষের মাধ্যমে সেই বার্তা পৌঁছয় মস্তিষ্কে। এবার মস্তিষ্ক গন্ধ বিচার করে সেই বস্তুকে শনাক্ত করে। মারণ ভাইরাস এই সিস্টেমটাকেই অকেজো করে দেয় যার ফল অ্যানোসমিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া, চিনে প্রথম রোগীদের মধ্যে এই দুই সমস্যা দেখা গিয়েছিল। কোনও কোনও রোগী হাইপোসমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। যার ফল গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি চলে যাওয়া। রোগী আর খারাপ-ভাল গন্ধের মধ্যে ফারাক করতে পারবে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ভাইরাস আপার রেসপিরেটারি ট্র্যাক্ট সিস্টেমে সংক্রমণ ঘটায়। যার কারণেই অ্যানোসমিয়া দেখা দেয়। স্বাদহীনতা বা অ্যাগিউসিয়াও করোনার সংক্রমণের ফলে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপসর্গ দেখা গেলে মিষ্টি, ঝাল, তেতো কোনও স্বাদই আর পাবে না আক্রান্ত রোগী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও উত্তর ইতালিতে অধিকাংশ আক্রান্ত রোগীর মধ্যে এই দুই উপসর্গ দেখা গিয়েছে।
মানুষের শরীরে ভাইরাসের এন্ট্রি পয়েন্ট হল নাক বা মুখ। সেখান দিয়ে ঢুকে শ্বাসনালীর মাধ্যমে ভাইরাস সোজা পৌঁছয় ফুসফুসে। ফুসফুস যদি দুর্বল হয় (তার নানা কারণ, অধিক ধূমপান, শ্বাসজনিত রোগ, ফুসফুসের কোনও সংক্রামক ব্যধি) তাহলে ভাইরাস দ্রুত প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়তে পারে। ধীরে ধীরে সংক্রামিত করতে পারে গোটা শ্বাসযন্ত্রকেই। ফুসফুসের সংক্রমণ গভীরে পৌঁছলে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি ডিজিজে আক্রান্ত হন রোগী। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা চলে যায়। তখন কৃত্রিমভাবে বাইরে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয়, যার কারণেই ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখতে হয় রোগীকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যেহেতু এক ব্যক্তির শরীর থেকে সরাসরি অন্য শরীরে এই ভাইরাস পৌঁছে যেতে পারে তাই রেসপিরেটারি ড্রপলেট অর্থাৎ থুতু, লালার মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। এখন রেসপিরেটারি ড্রপলেট দু’ভাবে ছড়াতে পারে। প্রথমত, কোভিড পজিটিভ রোগীর খুব কাছাকাছি এলে বা তার সংস্পর্শে বেশি থাকলে এবং দ্বিতীয়ত, এই রেসপিরেটারি ড্রপলেট কোনও পদার্থ বা সারফেসে জমে থাকতে পারে। পদার্থ কতটা মসৃণ হবে তার উপর নির্ভর করে ভাইরাস ড্রপলেটের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা টিকে থাকার সময় কতটা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদার্থ যত মসৃণ হবে ততই ভাইরাস বেশিদিন বেঁচে থেকে সংখ্যায় বাড়তে পারবে। সাধারণত প্লাস্টিক, স্টিল বা ওই জাতীয় মসৃণ সারফেসের উপরে সাতদিন অবধিও ভাইরাস ড্রপলেট বা রেসপিরেটারি ড্রপলেটকে জমে থাকতে দেখা গেছে। ওই সময়ের মধ্যে সেই সারফেস বা পদার্থের সংস্পর্শে এলে রোগ ছড়িয়ে পড়তে দেরি হবে না।