দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংস্কৃত ভাষায় নিয়মিত কথা বললে শরীর-স্বাস্থ্য অনেক ভাল থাকবে। কমবে ডায়াবেটিসের মাত্রা, লাগাম থাকবে কোলেস্টেরলে। এমনটাই দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ গণেশ সিংহ। শুধু তাই নয়, তাঁর আরও দাবি, কিছু ইসলামিক ভাষা-সহ বিশ্বের ৯৭ শতাংশ ভাষার ভিত্তি সংস্কৃতই।
এমনটা নতুন নয়। পুরাণ, চিকিৎসা, বিজ্ঞান-- এ সব কিছু নিয়েই বারবার নানারকম ভিত্তিহীন ও হাস্যকর কথাবার্তা শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের মুখে। কখনও দাবি করা হয়েছে গণেশের মাথায় প্লাস্টিক সার্জারি করে হাতির মাথা বসানো হয়েছিল, কখনও বা খোদ প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন ইন্টারনেট আবিষ্কারের আগেই তিনি ইমেল করে ছবি পাঠিয়েছেন। গোমূত্র ও গোদুগ্ধ নিয়ে তো বারবারই নানা অবৈজ্ঞানিক কথা সামনে এসেছে। স্বাধ্বী প্রজ্ঞা দাবি করেছিলেন গরুর গায়ে হাত বুলিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এ সবের পরে এবার সংস্কৃত ভাষার উপর সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন এক দাবি চাপিয়ে দিলেন গণেশ সিংহ। সংস্কৃত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিল নিয়ে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন গণেশ। সেখানেই তিনি বলেন, "সংস্কৃতে কথা বললে স্নায়ুতন্ত্র শক্তিশালী হয়, নিয়ন্ত্রণে থাকে কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস।" একটি মার্কিন সংস্থা গবেষণা করে এমনটা জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
বিতর্ক সভায় অভিযোগ ওঠে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়গুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও বেশি করে টাকা বরাদ্দ না করে, সংস্কৃত, ভারতীয় দর্শন, যোগ ইত্যাদির চর্চা বাড়াতে চাইছে কেন্দ্র। হিন্দুত্বের প্রসারই এসবের মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি ওঠে।
একথা শুনে অবশ্য একটুও দমে যাননি মন্ত্রী। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দেশের গৌরবময় অতীত জানা বেশি জরুরি। সেসব জানার জন্যও সংস্কৃত শিক্ষা দরকার। কারণ শূন্যের আবিষ্কর্তা আর্যভট্ট থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের চরক সংহিতা— সকলের লেখাই পড়া যাবে তাহলে।
বৃহস্পতিবারই তিনটি সংস্কৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য লোকসভায় বিল এনেছিল কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। সে বিল নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে, কয়েক মাস আগে কলকাতা শহরে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘‘সংস্কৃতের পণ্ডিত হিসেবে খ্যাত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামে অন্তত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হলে, পশ্চিমবঙ্গে তাঁর মূর্তি ভাঙার কালি খানিকটা হলেও মুছত।’’
এই প্রসঙ্গে জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক অবশ্য বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে কোনও কথা বলেননি। কিন্তু সংস্কৃত নিয়ে অন্য এক মতামত দিতে গিয়ে ট্রোলের স্বীকার হলেন গণেশ সিংহ।