দেশের ২০টি শহরে টিকার ট্রায়াল শুরু করব, ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি পেয়ে বলল সেরাম
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ২০টি শহরে করোনার টিকা দেবে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। এই টিকার ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। নতুন গাইডলাইনে এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
দেশে এখন করোনার
শেষ আপডেট: 30 July 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ২০টি শহরে করোনার টিকা দেবে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। এই টিকার ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। নতুন গাইডলাইনে এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
দেশে এখন করোনার টিকার ট্রায়াল করছে দুই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভারত বায়োটেক ও জাইদাস ক্যাডিলা। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির টিকার প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট ইতিবাচক দেখেই দেশেও এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য অনুমতি চেয়েছিল সেরাম। সংস্থার চেয়ারম্যান আদর পুনওয়ালা জানিয়েছিলেন, অগস্টেই টিকার ট্রায়াল শুরু হয়ে যাবে দেশে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)-এর অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
সেরাম জানিয়েছে, টিকার ট্রায়ালের ব্যাপারে ড্রাগ কন্ট্রোলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। গাইডলাইনেও কিছু বদল হয়েছে। পরিবর্তিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গোটা দেশজুড়েই টিকার ট্রায়াল হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি শহরে টিকা দেবে সেরাম। ১৬০০ জন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবকের কথা বলা হলেও এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই জানিয়েছেন সেরাম সিইও আদর পুনাওয়ালা।

ড্রাগ কন্ট্রোলের নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল একসঙ্গে না করে এই দুই পর্বকে আলাদা করে নিক সেরাম। টিকার ট্রায়ালের তত্ত্বাবধান ও যাবতীয় খরচ বহন করবে আইসিএমআর। তার জন্য আইসিএমআরের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে সেরাম।
অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হওয়ার পরেই ভারতে এই টিকা তৈরির লাইসেন্স পায় সেরাম ইনস্টিটিউট। ব্রিটেনের জেন্নার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন ChAdOx1 nCoV-19 ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম। কোভিড ভ্যাকসিন গবেষণায় অক্সফোর্ডের হাত ধরেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রজেনেকার সঙ্গে চুক্তি করে ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিনের ফর্মুলাতেই কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন তৈরি করেছে সেরাম।
অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনেছে ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল। সেই রিপোর্টে সারা গিলবার্টের টিম জানিয়েছে, দুই পর্যায়ে ১০৭৭ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। দুটি দলে ভাগ করে একটি দলকে ভ্যাকসিনের একটি ডোজ ও অন্যদলকে নির্দিষ্ট দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ দেওয়া হয়। দেখা গেছে, যাদের একটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল তাদের ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে কাজ করেছে দু’ভাবে। প্রথমত বি-কোষকে সক্রিয় করে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে, দ্বিতীয়ত, শরীরের টি-কোষকে সক্রিয় করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলেছে।