দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর অগাস্টে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করা হয়। বুধবার দিল্লিতে সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে নতুন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে বলেন, ওই পদক্ষেপ ছিল ঐতিহাসিক। এর ফলে পশ্চিম সীমান্তে আমাদের প্রতিবেশীরা আগের মতো ছায়াযুদ্ধ চালাতে পারছে না। জম্মু-কাশ্মীর দেশের মূলস্রোতে যুক্ত হয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলব। তাঁর কথায়, “সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার বহু পথ আছে। আমরা কোনও পথ ব্যবহার করতেই দ্বিধা করব না।”
এর আগেও জেনারেল নারাভানে বলেছিলেন, স্পেশ্যাল স্ট্যাট্যাস রদ হওয়ার পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তি আগের থেকে অনেক কমেছে। হালফিলের পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দিচ্ছে উপত্যকায় আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এখন আগের তুলনায় অনেক ভাল।
সেনাপ্রধানের কথায়, “অগস্টের ৫ তারিখের আগের পরিসংখ্যান এবং তারপরের অবস্থা দেখলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয় যে জম্মু-কাশ্মীরে এখন আইনশৃঙ্খলার অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভাল। অশান্তির ঘটনা, পাথর ছোড়া এবং জঙ্গি নাশকতা সবই চোখে পড়ার মতো কমেছে উপত্যকায়। এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।”
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও বলা হয়েছে ২০১৯ সালের অগস্ট থেকে এখনও পর্যন্ত পাথর ছোড়ার ঘটনা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ভারত সরকারের তরফে আরও বলা হয়েছে যে, ৩৭০ ধারা বিলোপের পর জম্মু-কাশ্মীরে ১৯০-এর আশেপাশে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৬০ জনের ইতিমধ্যেই জেলও হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গোটা ২০১৯ জুড়ে মোট ৫৪৪টি পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ১৯০টি উপত্যকায় স্পেশ্যাল স্ট্যাট্যাস রদ হওয়ার পর। বাকি সব ঘটনাই ঘটেছে অগস্টের ৫ তারিখের আগে। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালের ৫ অগস্টই জম্মু-কাশ্মীর থেকে অবলুপ্ত হয় ৩৭০ ধারা।