দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন বিজেপির এমপি প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র বিভিন্ন ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে। তাছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা, অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক আইনেও তিনি অভিযুক্ত। অসুস্থতার কারণে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। সম্প্রতি জানা যায়, প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে ২১ সদস্যের এক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এই কমিটির কাজ প্রতিরক্ষা নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া। কমিটির শীর্ষে আছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা কনসালটেটিভ কমিটি অন ডিফেন্সের সদস্য হয়েছেন শুনে বিরোধীরা হইচই শুরু করেছেন। কংগ্রেস বলেছে, প্রজ্ঞা ওই কমিটির সদস্য হওয়ায় প্রতিরক্ষা বাহিনী অপমানিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কংগ্রেস থেকে টুইট করে বলা হয়, “প্রজ্ঞা ঠাকুর নিজে সন্ত্রাসে অভিযুক্ত। তিনি নাথুরাম গডসের ভক্ত। বিজেপি সরকার তাঁকে উপদেষ্টা কমিটির সদস্য করেছে। এতে আমাদের সম্মানিত প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রত্যেক সাংসদ এবং দেশবাসী অপমানিত হয়েছেন।”
https://twitter.com/INCIndia/status/1197390213061828609
গত লোকসভা ভোটে প্রথমবার সাংসদ হয়েছেন প্রজ্ঞা। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংকে ৩.৬ লক্ষের বেশি ভোটে হারিয়েছেন। উপদেষ্টা কমিটি নিয়ে সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ৩১ অক্টোবর। তাতে দেখা যায়, জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা ওই কমিটিতে আছেন। তিনি অবশ্য এখন শ্রীনগরে গৃহবন্দি হয়ে আছেন। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর থেকেই তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে।
গত কয়েক মাসে দু’টি বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রজ্ঞা। লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় তিনি মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক বলেছিলেন। বিজেপি থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল, ওই মন্তব্যের সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই।
গত জুলাই মাসে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রের অন্তর্গত শেহরে বিজেপি কর্মীরাই এলাকার জলনিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের নর্দমা পরিষ্কার করার জন্য এমপি হইনি। যে কাজের জন্য আমি নির্বাচিত হয়েছি, তা সৎভাবে করে যাব।”