দ্য ওয়াল ব্যুরো: দৈনিক সংক্রমণ রেকর্ড ছাড়াল দেশে। দিনকয়েক ধরেই নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছিল ৬০ থেকে ৬৫ হাজারের মধ্যে। আজ, বৃহস্পতিবার এক ধাক্কায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সকালের বুলেটিনে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৬০ জন রোগী।
দেশে এখন কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৩৩ লাখ ১০ হাজার ২৩৪ জন। করোনা সক্রিয় রোগী সাত লাখের বেশি। অ্যাকটিভ কেস ২২ শতাংশ ছুঁতে চলেছে।
আজকের বুলেটিন বলছে, ভাইরাসের সংক্রমণে একদিনে মৃত্যু হয়েছে হাজারের বেশি করোনা রোগীর। সেই সঙ্গেই দেশে করোনা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রের হিসেবে ৬০ হাজার ৪৭২ জন।
কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার বেড়েছে দেশে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির এটাও একটা কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিদিন যত জন রোগীর করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তার মধ্যে প্রতি ১০০ জনে যতজন রোগীর কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, তাকেই বলে কোভিড পজিটিভিটি রেট বা সংক্রমণের হার। কোভিড পজিটিভিটি রেট থেকেই বোঝা যায় সংক্রমণ কী পরিমাণে ছড়াচ্ছে এবং কতজনের মধ্যে ছড়াচ্ছে। সপ্তাহের গোড়ায় দেখা গিয়েছিল, এই সংক্রমণের হার কখনও বেড়েছে আবার কখনও ঝপ করে কমে গেছে। গত সোমবার কোভিড পজিটিভিটি রেট ছিল ৮ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু তারপরেই একলাফে সংক্রমণের হার দশ শতাংশের কাছাকাছি চলে যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, কিছু রাজ্যে অবশ্য এই পজিটিভিটি রেট চিন্তার কারণ। যেমন মহারাষ্ট্র, গোয়া, ছত্তীসগড়, হিমাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশে সংক্রমণের হার বেশি। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রক এখন জানাচ্ছে, কোভিড পজিটিভিটি রেট ফের কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য হল এই পজিটিভিটি রেট পাঁচ শতাংশের মধ্যে বেঁধে ফেলা।

কেন্দ্রের বুলেটিনে ইতিবাচক দিক হল মৃত্যুহার কমে যাওয়া। দেশে এখন কোভিড ডেথ রেট বা মৃত্যুহার ১.৮৩%। সুস্থতার হারও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ হাজার ০১৩ জন রোগী করোনা সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন। সুস্থতার হার বা কোভিড রিকভারি রেট ৭৬.২৪%।
দেশে ‘এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর’ তথা ‘আর নম্বর’ কমেছে। জুলাই মাসের শেষে এই আর নম্বর ছিল ১.১৭ পয়েন্টে। অগস্টের শেষে এসে দেখা গেছে আর নম্বর কমে দাঁড়িয়েছে ১.০৩ পয়েন্টে। আর নম্বর কমলে করোনা ট্রান্সমিশন রেট তথা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার কমবে। একের নিচে নেমে গেলে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যাও কমে যাবে। পাশাপাশি, একজন আক্রান্তের থেকে বেশিজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হারও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কোভিড টেস্ট আরও বেড়েছে দেশে। আইসিএমআরের হিসেবে এখনও অবধি সাড়ে তিন কোটির বেশি কোভিড টেস্ট হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মোট ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫১০টি। প্রতিদিন প্রায় আট লাখের বেশি কোভিড টেস্ট হচ্ছে। গতকালই দেশে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখের বেশি। আইসিএমআরের হিসেবে, ৯ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৮, যা এখনও অবধি সর্বাধিক। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, এর পর থেকে প্রতিদিন ১০ লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দেশের মোট ১৫৫০টি ল্যাবরেটরিতে কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে যার মধ্যে সরকারি ল্যাবরেটরি রয়েছে ৯৯৩টি এবং বেসরকারি ল্যাব ৫৫৭টি। রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট হচ্ছে ৭৯৫টি ল্যাবে, ট্রু্ন্যাট টেস্ট করা হচ্ছে ৬৩৭টি ল্যাবরেটরিতে।