অনেকেই তাকে রাতের অন্ধকারে দেখেছেন। গত ১৫ দিন ধরেই এই ‘গুজব’ ঘুরে বেড়াচ্ছিল ওই এলাকায়। ভয়ে কেউই রাত ১০টার পর থেকে পা দিচ্ছিলেন না ওই চত্বরে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 July 2025 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাদা পোশাক পরে কেউ নাকি ওখানে ঘোরাফেরা করে। অনেকেই তাকে রাতের অন্ধকারে দেখেছেন। গত ১৫ দিন ধরেই এই ‘গুজব’ ঘুরে বেড়াচ্ছিল ওই এলাকায়। তাই ভয়ে কেউই রাত ১০টার পর থেকে পা দিচ্ছিলেন না ওই চত্বরে।
সাঁইথিয়ার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির খুনের ঘটনায় ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে পরিকল্পনামাফিক খুনের তত্ত্ব। বালি বখরা নিয়ে খুন? নাকি মহিলাঘটিত কারণ – খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরেই গতকাল অর্থাৎ শনিবার ভোররাতে খুন হয়েছেন শ্রীনিধিপুর তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি (Trinamool Leader Death) পীযূষ ঘোষ। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ২ মহিলা-সহ আটক করা হয়েছে ৩ জনকে। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
বারবার ফোন করলেও স্ত্রীর ফোন ধরেননি পীযূষ। রাত আড়াইটে নাগাদ ওই খুন হয় বলে পুলিশের ধারণা।
ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ রাস্তা থেকে উদ্ধার হয় তৃণমূল নেতার দেহ, পাশে রাখা ছিল তাঁর বাইক। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মাথার পেছনে গুলি করা হয় তাঁকে। গুলি মাথা ফুঁড়ে কপাল দিয়ে বেরিয়ে যায়।
যে পরিস্থিতিতে তাঁর দেহ এবং রাস্তার পাশে বাইক পাওয়া গেছে, তাতে এই খুন কোনও পরিচিতের কাজ বলেই সন্দেহ পুলিশের। বাইক থামিয়ে কথা বলছিলেন ওই তৃণমূল নেতা, তখনই খুব কাছ থেকে মাথার পিছনে গুলি করা হয় তাঁকে।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কিছু ঘটনা (পরিবারের অভিযোগ, বালি সংক্রান্ত) নিয়ে বেশ চাপে ছিলেন পীযূষ। গতকাল রাত ১২টা নাগাদ কারও ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ওই তৃণমূল নেতা। ৩টে নাগাদ বাড়িতে আসে খুনের খবর। প্রথমে দেহ উদ্ধার করার জন্য সাহায্য চেয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি, ক্ষোভ পরিবারের। তারপর স্থানীয়দের সাহায্যে তাঁর দেহ তুলে নিয়ে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে যায় পরিবার। ময়নাতদন্ত চলছে বলেও খবর।
পরিবার জানিয়েছে, এর আগে ভোটের সময় বাড়িতে চিরকুট পাঠিয়ে নেতা ও তাঁর ছেলেকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। সম্ভবত, সভাপতির পদ থেকে সরাতেই এই খুন, এমনটাই মনে করছে পরিবার।
মৃতের স্ত্রীর দাবি, ‘বারবার বলেছিলাম রাজনীতি থেকে সরে আসুক। দুই ছেলে নিয়ে ভয়ে আছি। ছেলের চাকরির ব্যবস্থা করা হোক।'