দুর্ঘটনার পরই সপরিবারে উধাও হয়ে যান অভিযুক্ত মালিক। মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে শনিবার রাতে নলহাটিরই এক জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

শেষ আপডেট: 14 September 2025 21:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূমের নলহাটিতে বেআইনি পাথর খাদানে (Nalhati stone quarry accident) ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৬ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় (illegal quarry death) অবশেষে গ্রেফতার হলেন খাদান মালিক ভুলু ঘোষ (quarry owner arrested)। শুক্রবার প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে ধস নামায় কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকদের ওপর জমে যায় পাথরের স্তূপ। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৬ জন। চারজন আহত হন (Birbhum news)।
দুর্ঘটনার পরই সপরিবারে উধাও হয়ে যান অভিযুক্ত মালিক। তবে পুলিশের তৎপরতায় তাঁর মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে শনিবার রাতে নলহাটিরই এক জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন, ‘‘যে খাদানটি চলছিল সেটি বেআইনি। মূল অভিযুক্ত ভুলু ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদি দেখা যায় আরও কেউ এর সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই একের পর এক অবৈধ খাদান গজিয়ে উঠছে। আহত শ্রমিকের দাদা স্বপন মাল বলেন, ‘‘প্রায় সব খাদানই অবৈধ। প্রশাসন দেখেও চুপ করে আছে। এর ফলেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে।’’
অন্যদিকে ধৃতের আত্মীয় সেন্টু ঘোষ বলেন, ‘‘দু’-তিন বছর ধরে ব্যবসা করছে। তার আগে চাষবাস করত। গাড়ি কিনে মাইনসে ঢোকে। বৈধ না অবৈধ সেটা বলতে পারব না।’’
শুক্রবারের দুর্ঘটনায় জেসিবি মেশিন দিয়ে পাথরের স্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের দেহ উদ্ধার করতে হয়। বেশ কয়েকজনের দেহ কার্যত চিঁড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষায়, ‘‘এ যেন মারণ খাদান।’’
ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে নলহাটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে বছরের পর বছর এমন অবৈধ খাদান চালু ছিল?