স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজ চলাকালীন আচমকাই ধস নামে খাদানটিতে। সেই সময় সেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ধস নামতেই অধিকাংশ শ্রমিক পাথরের তলায় চাপা পড়েন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 March 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু মাসের ব্যবধানে আবারও বীরভূমে পাথর খাদানে ধস (Birbhum quarry accident)। এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই শ্রমিকের (Birbhum labour death quarry)। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও কয়েক জন। সোমবার এই ঘটনা ঘটেছে মুরারাই থানার অন্তর্গত গোপালপুর এলাকায় (Murarai quarry collapse)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজ চলাকালীন আচমকাই ধস নামে খাদানটিতে। সেই সময় সেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ধস নামতেই অধিকাংশ শ্রমিক পাথরের তলায় চাপা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে কয়েক জনকে বাইরে বের করে আনেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং উদ্ধার হওয়া জখমদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, দুর্ঘটনাগ্রস্ত খাদানটির মালিক বীরভূম জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও বীরভূমের নলহাটি এলাকায় একটি পাথর খাদানে ধস নেমেছিল। সেই দুর্ঘটনায় পাঁচ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।
সোমবারের ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির দাবি, খাদানটি অবৈধ এবং এর মালিক তথা তৃণমূল নেতাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। বিজেপির বীরভূম সংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘‘নির্বাচনী আদর্শ বিধি কার্যকর হয়েছে। তাই অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা উচিত।’’
অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দলের এক নেতা বলেন, এই মুহূর্তে কার মালিকানা তা দেখার থেকে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর বীরভূমের নলহাটিতে বেআইনি পাথর খাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে ধস নেমেছিল। কর্মরত অবস্থায় শ্রমিকদের ওপর জমে যায় পাথরের স্তূপ। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৬ জন। চারজন আহত হন। খাদানটি থেকে অবৈধভাবে পাথর তোলার কাজ চলছিল, তা নিয়ে অভিযোগও জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপরই ৬ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় খাদান মালিক ভুলু ঘোষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।