
শেষ আপডেট: 20 April 2023 06:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের বিড় জেলায় সকাল থেকেই হইচই চলছে। মাজালগাঁও এলাকার জায়গায় জায়গায় পোস্টার পড়েছে। পোস্টারে বড় বড় করে লেখা, 'শহিদ' হয়েছেন আতিক আহমেদ (Atiq Ahmed) ও তাঁর ভাই আশরাফ (Ashraf Ahmed)। এমন পোস্টার দেখে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। সমস্ত পোস্টার খুঁজে খুঁজে তা সরানোর কাজ চলছে সকাল থেকে। দু'জনকে আটক করে থানায় নিয়েও গেছে পুলিশ।
ছেলের শেষকৃত্যের দিনেই খুন হন তাঁর বাবা তথা কুখ্যাত গ্যাংস্টার আতিক আহমেদ (Atiq Ahmed)। দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয় ভাই আশরফেরও। পুলিশি নজরদারিতে প্রয়াগরাজের হাসপাতালে মেডিকেল চেক আপের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাঁদের। তখন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান, সাংবাদিক সেজে এসে গ্যাংস্টার ভাইদের খুন করে তিন জন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পুলিশ জানায়, আতিকের মাথায় একটি গুলি করা হয়েছিল। তাছাড়া তাঁর বুকে ও পিঠে আরও আটটি বুলেটের ক্ষতচিহ্ন ছিল। অন্যদিকে আতিকের ভাই আশরফের দেহে মিলেছে পাঁচটি বুলেট। এর মধ্যে একটি মুখে ও চারটি গুলি তার পিঠে করা হয়েছিল।
রাজু ঝা খুনে ধৃত অভিজিৎকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত, আটক আরও দুই
সম্পূর্ণ পুলিশি ঘেরাটোপে, মিডিয়ার লোকজনের উপস্থিতিতে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল সে নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন ওঠে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এমনকী বলা হয়, আততায়ীদের গুলি চালাতে দেখেও বাধা দেয়নি পুলিশ। এই ঘটনার জল অনেকদূর গড়িয়েছে। সাংবাদিকের ছদ্মবেশে আতিক ও আশরফের উপর হামলা চালিয়েছিল যে তিনজন তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম লভলেশ তিওয়ারি, সানি এবং অরুণ মৌর্য। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, তুর্কির অস্ত্র কারখানায় তৈরি ‘জিগানা’ পিস্তল দিয়ে এই হত্যালীলা চালায় আততায়ীরা। নিজের পরিচয় গোপন করতে সংবাদমাধ্যমের নকল পরিচয় পত্র তৈরি করেছিল তারা। এছাড়া বুম ও ক্যামেরাও কিনেছিল অভিযুক্তরা। সাংবাদিকতার ক্র্যাশ কোর্স করেওছিল তারা, যাতে তাদের কেউ সন্দেহ না করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্যাংস্টার ভাইদেরই দলের কেউ এই পোস্টার লাগানোর কাজ করেছে। দু'জনকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আতিকের গ্যাংস্টার দলের কারা জড়িত সেই খোঁজ করছে পুলিশ।