শেষ আপডেট: 12 April 2020 14:43
এবছরের মার্চ মাস থেকে কার্যত মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠে ইতালি। সেই মৃত্যুর সংখ্যা এখন খানিকটা কমের দিকে। কিন্তু অবরুদ্ধ দেশ এখনও ছন্দে পেরেনি এতটুকু। তাই চারদেওয়ালের মধ্যেই বন্দি সকলে। প্রার্থনা করছেন নিরালায়। স্পর্শ বাঁচাতে একে অপরের থেকে কয়েক হাত দূরেই থাকছেন সকলে।
এরই মধ্যে ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে একা পোপ ফ্রান্সিস। মহামারী পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই ভ্যাটিকানে একা দাঁড়িয়ে পোপ ফ্রান্সিসকে রোজ হাত নাড়তে দেখা গেছে ফাঁকা প্রান্তরের দিকে তাকিয়ে। কয়েক দিন আগে অসংখ্য মৃত্যুর খবর পেয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন বিশ্বের বৃহত্তম গির্জা সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার সামনে। একা প্রার্থনা করেন সমস্ত মানবজাতির জন্যে৷ সেদিন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “আমরা সবাই এক নৌকায় এখন। আমাদের সবাইকে এক হয়ে লড়তে হবে।”
রবিবার ইস্টারের বক্তৃতায় ফ্রান্সিস বাইবেলে থাকা সেই নারীর কথা উল্লেখ করেন, যিনি যীশুর শূন্য কবর আবিষ্কার করে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। মৃত যীশু সেদিন ফের জীবিত হয়ে উঠেছিলেন বলে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন। পোপ বলেন, “সে সময়েও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ছিল সেখানে। প্রয়োজন ছিল সবকিছু পুনর্নির্মাণের। বেদনাদায়ক সে স্মৃতি, যেখানে আশা বলতে কিছুই ছিল না। সেটি ছিল সবচেয়ে অন্ধকার সময়। ভয় পেও না, আতঙ্কের কাছে সমর্পিত হোয়ো না। এটাই ছিল তখন একমাত্র আশার বার্তা। আজ আমাদের জন্যও এটা বলা হয়েছে।”
গত বছরের ডিসেম্বরে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রাদুর্ভাব হয় নোভেলকরোনাভাইরাসের। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস এরই মধ্যে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে, এক লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই অবরুদ্ধ। ইতালিতে মৃত্যুমিছিল ছুঁয়েছে প্রায় ২০ হাজার, আক্রান্ত দেড় লক্ষের উপর।
এমনই অসহায় এক পরিস্থিতিতে বেদনাবিধুর প্রার্থনায় সকলের মন আর্দ্র করে তুললেন পোপ ফ্রান্সিস।