
শেষ আপডেট: 26 October 2023 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে খোয়া যাওয়া চার ভরি সোনার গয়না, টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করল পুলিশ। হারানো গয়না ফিরে পেয়ে চোখের জলে ভাসলেন ক্যানিংয়ের দম্পতি।
পুজোয় বাপের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন পিয়ালির বধূ শীলা মণ্ডল। তাঁর বাপের বাড়ি গোসাবার চণ্ডীপুর গ্রামে। বিজয়া দশমীর পর বুধবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরছিলেন। গদখালি থেকে ম্যাজিক গাড়িতে চেপে ক্যানিংয়ে আসেন ওই বধূ। সেখানে ম্যাজিক গাড়ি থেকে এক একটি করে চারটি ব্যাগ নামান। দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোর মধ্যে একটি ব্যাগ রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি উঠে বসার আগেই অটোচালক অটো চালিয়ে এলাকা ছাড়ে। তাঁর ব্যাগে ছিল সোনার গয়না, নগদ টাকা আর মোবাইল ফোন।
ব্যাগ হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই বধূ। পরে ক্যানিং ট্রাফিকগার্ড ও ক্যানিং থানায় অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগ পেয়েই সক্রিয় হয় পুলিশ। এলাকায় শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। ক্যানিং থানার আইসি সৌগত ঘোষের নির্দেশে ক্যানিং থানার দুই অফিসার রঞ্জিত চক্রবর্তী ও ইজাজ আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এলাকার বিভিন্ন রাস্তা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। বধুর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনও ট্র্যাক করতে থাকে।
অবশেষে ক্যানিংয়ের গোপালপুর পঞ্চায়েতের গলাডহরা গ্রামে মোবাইল ফোনের লোকেশন পাওয়া যায়। খোঁজ শুরু করে পুলিশ। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ধরে পুলিশ ধানখেতের হাঁটু জলে নেমে তল্লাশি শুরু করে। চতুর অটোচালক পুলিশের এমন কাণ্ডকারখানা দেখে ভয় পেয়ে যায়। যে কোনও মুহূর্তে বিপদ হতে পারে ভেবেই সোনার গয়না ফেরত দিতে বাধ্য হয় ওই অটোচালক।
লোক মারফত সমস্ত সোনার গয়না, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন পুলিশের হাতে তুলে দেন অটোচালক। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন ক্যানিং থানার পুলিশও। মাত্র ৫ ঘণ্টায় এমন সাফল্যে পুলিশ কর্মীরা খুশি। বুধবার রাতেই উদ্ধার হওয়া সোনার গয়না নিয়ে যেতে বলা হয় ওই বধূকে। তড়িঘড়ি ক্যানিং থানায় হাজির হন ওই বধু। সেখানে উদ্ধার হওয়া সোনার গয়না, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ওই বধুর হাতে তুলে দেন ক্যানিং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দিবাকর দাস। দিবাকরবাবু বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে মহিলার হারিয়ে যাওয়া সোনার গয়না উদ্ধার করে তাঁর হাতে তুলে দিতে পেরেছি। এতে আমরা খুবই খুশি।”