কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়েছে, দু’ দিনে ২০০-এর বেশি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে এখানে। কদমতলা ঘাটে একমাত্র অশান্তি করেছে চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটি।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 2 November 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসানে বিশৃঙ্খলা (Jagaddhatri Puja) নিয়ে এ বার নিজেদের বিবৃতি দিল কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ (Krishnanagar Police)। তারা জানিয়েছে, ভাসান পর্ব একেবারেই শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে কৃষ্ণনগর চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটির সদস্যরা মহিলা পুলিশ কর্মীদের হেনস্থা করেছেন। কোতোয়ালি থানা তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও কোতোয়ালি থানার আইসির বিরুদ্ধে গালিগালাজ করার অভিযোগ তুলে ময়দানে বিজেপি। ভাসানের দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাতে চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটির লোকজনকে আইসি অমলেন্দু বিশ্বাস কী বলেছেন, সেই ভিডিওই নিজেদের প্রোফাইলে পোস্ট করে সরব শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পালরা।
জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। কার্যত ষষ্ঠী থেকেই মানুষের ঢল নামে। আর এই বিপুল জন সমাগমের মাঝে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখাটাই জেলা পুলিশের কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে করাই কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের সব থেকে বড় ‘টাস্ক’।
কৃষ্ণনগরের প্রতিমা বিসর্জনের বিশেষত্ব হল, বেহারাদের কাঁধে বওয়া বাঁশের মাচা বা ‘সাঙ’-এ প্রতিমা নিয়ে যাওয়া। আর সব প্রতিমাই কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির নহবতখানা ছুঁয়ে জলঙ্গির কদমতলা ঘাটে পৌঁছয়। যে হেতু এতগুলি পুজো কমিটি এক পথে মুখোমুখি হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও তৈরি হয়। কৃষ্ণনগরের বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঘিরে প্রতি বছরই কোনও না কোনও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। বিসর্জন ঘিরে গন্ডগোল, মারামারির অভিযোগও নতুন নয়। যদিও পুলিশ তা দক্ষ হাতেই সামাল দেয়।
এ বারও তার অন্যথা হয়নি। তবে এ বার বিতর্ক একটু বেশিই। উর্দিধারী আইসির বিরুদ্ধে কুকথার অভিযোগ তুলে সরব বিজেপি। যদিও কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, ‘শোভাযাত্রার সময়ে যে ভাবে পুজো কমিটির লোকেরা মহিলা পুলিশ কর্মীদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করছিলেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের রীতিমতো হেনস্থা করছিলেন। আইসি তারই প্রতিবাদ করেছেন। একটা পরিবারের উপরে এ রকম হেনস্থা, কেউ কি মেনে নিতে পারেন?’
শুক্রবার রাতে বিসর্জন চলাকালীন চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটির সঙ্গে পুলিশের বচসা বাধে। অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটি প্রতিমা নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখে। যার ফলে অন্যান্য প্রতিমার ভাসানে বিঘ্ন ঘটে। সেই সময়ে কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ কর্মী রুবি দত্ত, দেবারতি বিশ্বাস ও মন্দিরা দেবনাথ পুজো উদ্যোক্তাদের শান্তিপূর্ণ ভাবে নিরঞ্জন পর্ব সম্পন্ন করার অনুরোধ করলে চকেরপাড়া বারোয়ারির কিছু সদস্য তাঁদের খারাপ ভাষায় কথা বলেন। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যা সামাল দিতে লাঠি উঁচিয়ে ছুটতে দেখা যায় পুলিশকে।
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়েছে, দু’ দিনে ২০০-এর বেশি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে এখানে। কদমতলা ঘাটে একমাত্র অশান্তি করেছে চকেরপাড়া বারোয়ারি পুজো কমিটি। চকেরপাড়া ক্লাবের ইতিহাস আছে, অশান্তি করার এবং জিনিসপত্র নষ্ট করার। পুলিশ তদন্ত করছে।
এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর তারপরই তা ভাইরাল। পরিস্থিতি নাকি এমনই হয়ে ওঠে যে সামাল দিতে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে বলে অভিযোগ।