
শেষ আপডেট: 31 December 2023 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি প্রকৃত অর্থেই বাংলা মায়ের দামাল সন্তান। একদিকে শিক্ষকতা করেন, কিন্তু নেশা হল পাহাড় চড়া। যে সে পাহাড় নয়, মাউন্ট এভারেস্ট, অন্নপূর্ণা, মাকালুর মতো শৃঙ্গে ইতিমধ্যেই উঠে পড়েছেন তিনি। কিছুদিন আগেই চন্দননগরের মেয়ে পিয়ালী বসাকের এমন অভাবনীয় কৃতিত্বের জন্য রাজ্যপাল তাঁকে পুরস্কৃত করেছেন। যদিও হাতে আসেনি পুরস্কারের টাকা। সেই পিয়ালীর এখন দেনার দায়ে পথে বসার যোগাড়! বিপুল অঙ্কের ঋণ শোধ করার জন্য এখন চন্দননগর বইমেলায় স্টল খুলে বসেছেন তিনি।
পাহাড় প্রেমীদের কাছে পিয়ালী বসাক মোটামুটি পরিচিত নাম। তাঁর একের পর এক দুর্গম শৃঙ্গে অভিযানের কাহিনি গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতোই। পেশায় স্কুল শিক্ষিকা পিয়ালী ছোট থেকেই প্রকৃতিকে ভালবাসতেন, আর ভালবাসতেন পাহাড়। সেই ভালবাসার টানেই সরকারি কিংবা বেসরকারি, কোনও তরফেই আর্থিক সাহায্য না পেলেও দমে যাননি। ব্যক্তিগত ঋণ নিয়েই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অভিযানের সরঞ্জাম কিনে নিজের খরচ নিজেই জুগিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু টাকা শোধ হয়ে গেলেও এখনও দেনার অঙ্ক প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারলে নতুন শৃঙ্গ অভিযানের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
এর মধ্যেই অক্টোবর মাসে পিয়ালীর মা ইহলোক ত্যাগ করেছেন। তাঁর বাবাও বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে সংসার খরচ। স্কুলের চাকরির সামান্য বেতনে সবটা সামলে উঠতে নাভিশ্বাস উঠছিল পিয়ালীর। তাই বাধ্য হয়ে চন্দননগর বইমেলায় জ্যাকেট, জুতো সহ পাহাড় থেকে সংগ্রহ করে আনা নানা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন তিনি।
গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে ইস্পাত সংঘের আয়োজনে শুরু হয়েছে চন্দননগর বইমেলা, যা চলবে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্কুল সামলে তারপর সেই বই মেলাতেই স্টলে গিয়ে বসছেন পিয়ালী। তবে বিক্রি কি হচ্ছে আদৌ? তরুণী অভিযাত্রী জানিয়েছেন, না, বরং এভারেস্ট জয়ীর সঙ্গে সেলফি তুলতে কিংবা গল্প শুনতে বেশি ভিড় করছেন মানুষ। তাঁর সঙ্গেই স্টলে বসছেন বোন তমালী বসাক। দিদি এবং বাবার জন্য ভিন রাজ্যের চাকরি ছেড়ে চলে এসেছেন তিনি। দুজনে মিলে এখন স্টল সামলাচ্ছেন। তবে লাভের অঙ্ক শূন্যের থেকে খুব বেশি ছাড়ায়নি।