
শেষ আপডেট: 28 September 2021 09:21
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিউটাউনে ভূগর্ভস্থ নালা দীর্ঘদিন পরিস্কার হয়নি। সেখানে জমা পলিতে জল যাওয়ার উপায় নেই। রাস্তার নীচে থাকা নালা থেকে পলি মুক্ত না করা গেলে জল যন্ত্রণা মিটবে না আধুনিক শহরের। এছাড়াও বাগজলা খাল ঠিক মতো সংস্কার না হয় না বলেও অভিযোগ। যেটুকু সংস্কারের কাজ হয় তা আবার বর্ষাকালে। তাতে কাজের কাজ কিছুই হয় না।
"একটানা জল জমে থাকার সময়েও অসুবিধার মধ্যে ছিলাম, নামার পরেও অন্য অসুবিধা। দুর্গন্ধ যেমন চারিদিকে আছে, তেমনই জলের থেকে যেসব রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে" জানান জল যন্ত্রণায় ভুক্তভোগী আবাসিক ঝুমা দাস।
সেই কথার রেশ টেনেই আর এক আবাসিক কমল মান্না জানান, "৬ বছর ধরে এই এলাকায় আছি। বৃষ্টি হলেই জল জমে যাচ্ছে। সহজে নামছে না। নিকাশি ব্যবস্থার অবস্থা খুব সঙ্গীন। পেট খারাপ হচ্ছে, গা হাত পায়ে চামড়ার অসুখ হচ্ছে। পানীয় জল নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।"
অন্য এক আবাসিক সুব্রত সাহার গলাতেও অভিযোগ একই। তিনি বলেন, "এতদিন জলের মধ্যে আমরা যে যাতায়াত করেছি তার প্রতিফলন এখন আমরা জল নেমে যাওয়ার পর পাচ্ছি। সামনে বড় ঝঞ্ঝার আশঙ্কা আছে, সেই সময় কী হবে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তা যাচ্ছে না।" এমনকি জল নামার পরে যে ডিটিডি পাউডার ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো আসল কিনা তা নিয়েও সংশয় আবাসিকদের মনে।
বিশেষত হাইজেনিক সমস্যায় ভুগছেন নিউটাউনবাসী। কলকাতায় ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ছে। আর জমা জলে সেইসব রোগ ছড়াতে পারে বলে ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। "জল নামলেও রোগের প্রকোপ বাড়বে। বাচ্চাদের নিয়ে ভয় হয়। এই জলেই তারা ঘোরাফেরা করেছে" জানান মহম্মদ সালেদ। পাশাপাশি, জল না জমার বা জমলেও তাড়াতাড়ি নেমে যাওয়ার স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের।
মূলত, ভুগর্ভস্থ নালা অপরিস্কার থাকার জন্যই বারবার এই সমস্যা হচ্ছে। সৌরভ নায়েক নামে এক বাসিন্দার কথায়, "এই পাম্প দিয়ে জল নামানো কোনও স্থায়ী সমস্যার সমাধান নয়। আবার বৃষ্টি হলে সেই জল জমে একই সমস্যা সৃষ্টি হবে।"
জমা জলের মধ্যে দোকানও খুলতে পারেননি অনেক দোকানদারও। ধীরে ধীরে জল নামায় পসার সাজিয়ে বসেছেন তাঁরা। তাতে যেমন ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে তেমন অসুবিধা হচ্ছে। আবার বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি কি হবে সেই নিয়ে চিন্তা বাড়ছে তাঁদেরও। আমিরুল হক নামে এক চায়ের দোকানের মালিক বলেন, "দোকান না খুললে পয়সা নেই। এমনিতেই বিক্রি কম। তার ওপর জল জমে থাকায় জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কাল থেকে জল নামায় দোকান খুলতে পেরেছি।"
প্রসঙ্গত, নিউটাউনের বাগজলা খাল সংস্কার নিয়ে একাধিক প্ৰশ্ন আছে এলাবাসীর মনে। অতি ভারী বৃষ্টিতে বাগজলা খাল ভরে যাওয়ায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে এলাকা। তবে ভবিষ্যতে এই সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেন হিডকোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর দেবাশিস সেন। তাঁর কথায়, "গত ৩০ বছরে এমন পরিস্থিতি হয়নি। এবছর অতি বৃষ্টির ফলে বাগজলা খাল ভরে যায়। সেই জল উপচে পরে এই বিপত্তি। তবে আগামী তিরিশ বছরও যাতে এই সমস্যা না হয় সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাঁধ আরও উঁচু করার কথা ভাবা হচ্ছে।"
কয়েকমাস আগেই নিউটাউনের শুট আউটের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল বাসিন্দাদের। এমনকি গতবারের টানা বৃষ্টিতে জমা জলের মধ্যেই খোলা ম্যানহোলে এক বাসিন্দার প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে থাকার ঘটনাও উঠে এসেছে। আর এবারের বৃষ্টিতে টানা এক সপ্তাহ জলের তলায় ছিল নিউটাউনের মতো আধুনিক শহর। সেই জল নামলেও যন্ত্রণা মুক্ত হতে পারছে না নিউটাউনবাসী। রোগের ভয়ে রাতের ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'