
শেষ আপডেট: 24 October 2021 14:27
এমনকি নানান রকমের ঐতিহাসিক বইয়ের খোঁজ মেলে তাঁর কাছে। এত বইয়ের সংগ্ৰহ করেন কোথা থেকে? পরিতোষ ভট্টাচার্যের কথায়, "বইয়ের রত্ন খনি হল পুরোনো কাগজের দোকান। ওখান থেকে এমন অনেক দুষ্প্রাপ্য বই পেয়েছি যা ন্যাশনাল লাইব্রেরিতেও নেই। রাগ-কল্প-দ্রুম, কৃষ্ণদেব ব্যাস ঠাকুরের লেখা বই। মাত্র তিনটি বই ছিল। একটি বাংলা ও দুটি দেবনগরী হরফে।"
আরও পড়ুনঃ ভারতীয় নৌবাহিনীতে ২৫০০ নাবিক পদে নিয়োগে দরখাস্তের শেষ সুযোগ আগামীকাল, জানুন বিস্তারিত
তবুও এখনও তাঁর অনেক বই না পাওয়াই থেকে গেছে। সেই তালিকায় যেমন আছে দাঁ বংশের ইতিহাস, তেমনই আছে ষষ্ঠীচরণ লাহার কালিদাসের পাখি। এইসব বইয়ের চাহিদা আছে, তবে জোগান নেই।
বহু প্রবাদ প্রতিম ব্যক্তির সান্নিধ্য পেয়েছেন তাঁর এই ৪৫ বছর কর্মজীবনে। অনেক লেখক-কবির চাহিদা মতো বইয়ের জোগানও দিয়েছেন তিনি। আধুনিক লেখক তো বটেই এমনকি সত্যজিৎ রায়, সত্যেন বোস, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্যও বই জোগাড় করে দিয়েছেন তিনি।
কোনো স্টল নয়, ব্যাগ কাঁধে ঘুরে ঘুরে বই বিক্রিই তাঁর নেশা। কখনও লাভের আশায় ছোটেন না তিনি। খুব কম টাকায় বই বিক্রি করেন তিনি। কলেজ স্ট্রিটের বই পাড়ায় পুরোনো নাম পরিতোষ ভট্টাচার্য।
এবছরই স্ত্রীকে হারান। ছেলে দুর্গাপুরে। কী করে সময় কাটান? পরিতোষবাবুর কথায়, "নিঃসঙ্গ কই, বই তো আমার সবচেয়ে বড় সময় কাটানোর সঙ্গী। বই পড়েই অর্ধেক সময় কেটে যায়। তারপর তো কফি হাউস আছেই।" সত্যিই এক ডাকে পরিচিত পরিতোষবাবুর সঙ্গীর অভাব নেই। এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে শুধু ডাক ওঠে, "পরি দা এদিকে আসো"।
এভাবেই ৭৮ বছর পার করে দিলেন পরিতোষ ভট্টাচার্য। সঙ্গে আছে লেখালেখির শখ। সময় পেলেই রাতে বসে পড়েন খাতা কলম হাতে। বেরিয়ে আসে কবিতা, গল্প। বই-ই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান-ভালোবাসা। এভাবেই বেঁচে আছেন সকলের প্রিয় পরি দা, পরিতোষ ভট্টাচার্য।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'