দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েকদিন আগে পাকিস্তান বলেছিল, শুক্রবার ভারতীয় কনস্যুলেটের কোনও কর্মীকে বন্দি কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে দেখা করতে দেবে। শুক্রবার পেরিয়ে গেলেও বন্দির সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না কোনও ভারতীয়। কবে দেখা করতে পারবেন, তা নিয়ে একটি কথাও বলছে না পাকিস্তান। অথচ আন্তর্জাতিক আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এভাবে বন্দির সঙ্গে তার দেশের কাউকে দেখা করতে না দেওয়া অন্যায়। এতে জেনেভা কনভেনশনে গৃহীত নীতির বিরোধিতা করা হয়।
৪৯ বছরের কুলভূষণ যাদব ২০১৬ সাল থেকে পাকিস্তানের জেলে বন্দি। পাকিস্তানের বক্তব্য, তিনি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে গোপনে বালুচিস্তানে ঢুকেছিলেন। সেখানে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালানোই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের সেনা আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য, নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মী কুলভূষণ ব্যবসা করতেন। ব্যবসার কাজেই তিনি গিয়েছিলেন ইরানে। সেখান থেকে পাকিস্তানের পুলিশ তাঁকে অপহরণ করেছে। ২০১৭ সালেই তার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে আপিল করে। তাঁর মৃত্যুদণ্ড রদ ও তাঁকে নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানায়।
গত ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক আদালত রায় দেয়, পাকিস্তানকে আরও একবার ভেবে দেখতে হবে, কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ঠিক হচ্ছে কিনা। ভারতীয় কনস্যুলেটের অফিসারদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক থেকে বলা হয়, শুক্রবার ভারতীয় কনস্যুলেটের কোনও প্রতিনিধিকে কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হবে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আমরা ভারতীয় হাই কমিশনকে জানিয়েছি, তাদের কনস্যুলেটের কাউকে শুক্রবার কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে অনুমতি দেব। ভারত এখনও কিছু জানায়নি। শুক্রবার কিন্তু এবিষয়ে আর উচ্চবাচ্য করেনি পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবারই ভারত থেকে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। কুলভূষণের সঙ্গে যখন ভারতের কোনও প্রতিনিধি দেখা করতে যাবেন, তাঁকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে দিতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় কোনও ব্যাঘাত ঘটালে চলবে না।
পাকিস্তান এক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দিয়েছিল। একটি শর্ত হল, ভারতের কনস্যুলেটের কোনও অফিসার যখন কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করবেন, তখন পাকিস্তানের একজন অফিসার সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এই শর্তটি মানতে রাজি হয়নি ভারত। তার পর থেকেই কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার ব্যাপারে একটি কথাও বলছে না পাকিস্তান।