দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১৯৮৫ সালে আইআরএস (IRS) অফিসার হয়েছিলেন হোমি রাজবংশ। তিনি ছিলেন ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল কো-অপারেশন মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর। অভিযোগ, পদমর্যাদার অপব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার থেকে সুবিধা নিয়েছিলেন। ২০১১ সালে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। ইডি অভিযোগ করে, তাঁর কাছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি আছে। সম্প্রতি প্যান্ডোরা পেপারে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে রাজবংশের দু'টি সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন সুইস অফিসার অব দি অ্যাটর্নি জেনারেল।
ওই দুই কোম্পানির নাম ছিল হর্সম্যান টেকনোলজিস লিমিটেড এবং ওইরোয়া ইন্ডাস্ট্রিজ ইনকর্পোরেটেড। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে কোম্পানিগুলি খোলা হয়েছিল। ২০০৪ সাল থেকে দু'টি কোম্পানির মুনাফার অংশ পেয়েছেন হোমি রাজবংশ ও তাঁর স্ত্রী অলকা রাজবংশ।
প্যান্ডোরা নথিতে দেখা যায়, সরকারি চাকরি করার সময়েই হোমি রাজবংশ ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে দু'টি কোম্পানি খুলেছিলেন। তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন 'ইন্ডিপেনডেন্ট কমোডিটি ব্রোকার' হিসাবে। তাঁর বাড়ি ছিল দিল্লির গ্রেটার কৈলাস এলাকায়। সুইস কর্তৃপক্ষ ওই দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
প্যান্ডোরা পেপারে অভিযুক্ত আর এক আইআরএস অফিসারের নাম সুশীল গুপ্ত। তিনি একসময় ইনকাম ট্যাক্স কমিশনার ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি অ্যালায়েড ট্রেডিং লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করান। নিজেকে তিনি ভারতীয় সংস্থা হোপওয়েল ট্রেডলিংকের 'বিজনেস ওনার' বলে দাবি করেন। তদন্তে জানা যায়, অ্যাস্টার ওয়ার্ল্ডওয়াইড লিমিটেড নামে এক সংস্থা হোপওয়েল টেডলিংক কোম্পানিটির দেখাশোনা করে। অ্যাস্টার মূলত ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের কোম্পানি। অ্যাস্টারের তহবিল জমা আছে সুইস ব্যাঙ্কে।
সেলিব্রিটি ও রাষ্ট্রপ্রধানরা গোপনে কী পরিমাণ অর্থ জমিয়েছেন তা নিয়ে তদন্ত করেছিল সাংবাদিকদের এক আন্তর্জাতিক সংঘ। মোট ১৪ টি আর্থিক সংস্থার থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ নথি সংগ্রহ করেছেন সাংবাদিকরা। ওই নথিগুলিকে বলা হচ্ছে প্যান্ডোরা পেপার। তাতে দেখা যায় এক ডজনের বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান গোপনে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, সব দেশের রাজনীতিকরাই আছেন তাঁদের মধ্যে। সাংবাদিকদের সংগঠন থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে অতি ধনী এবং ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা সকলের চোখ এড়িয়ে হাজার হাজার কোটি ডলার সঞ্চয় করেছেন। তাঁদের সাহায্য করার জন্য নানা সংগঠন সক্রিয়।