
শেষ আপডেট: 7 July 2023 05:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে জলের তলায় সব রকম কার্যকলাপ বন্ধের কথা ঘোষণা করল মার্কিন অ্যাডভেঞ্চার সংস্থা ওশানগেট (titan submarine accident)। বৃহস্পতিবারই তারা জানিয়েছে, সব রকমের অনুসন্ধান এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমও স্থগিত করছে তারা। এই বিষয়টি তাদের ওয়েবসাইটেও লিখে দিয়েছে তারা। জানিয়েছে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে আর কাউকে নিয়ে যাবে না তারা।
সপ্তাহ দুয়েক আগে কানাডার নিউ সাউথহ্যাম্পটনের সেন্ট জন্স থেকে পাঁচ অভিযাত্রীকে নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুব দেয় সাবমেরিন টাইটান। এই অ্যাডভেঞ্চারই করে থাকে টাইটান। সমুদ্রের গভীরে টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখাতে রওনা হয় সাবমেরিনটি। অন্যান্য ডুবের মতোই এবারও ৯৬ ঘণ্টার অক্সিজেনের রসদ নিয়ে সাগরে ডুব দেয় সাবমেরিন টাইটান। কিন্তু মাত্র পৌনে দু'ঘন্টার মাথায় দিক নির্দেশকারী জাহাজ বা কমান্ড শিপ 'পোলার প্রিন্স'-এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সাবমেরিনটির। তারপর থেকেই আর খোঁজ মেলেনি টাইটানের। পাঁচ অভিযাত্রী-সহ সাবমেরিনের খোঁজে চারদিন ধরে আটলান্টিকে তল্লাশি চালায় মার্কিন কোস্ট গার্ড। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অবশেষে খোঁজ মেলে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া সাবমেরিনের। ভিতরের যাত্রীরা সবাই মারা যান মর্মান্তিক ভাবে।
সাবমেরিনে ছিলেন ব্রিটিশ ধনকুবের হামিশ হার্ডিন, পাকিস্তানের ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ ও তাঁর ছেলে সুলেমান, পল হেনরি নার্জিওলেট এবং ওশানগেট সংস্থারই সিইও স্টকটন রাশ। জানা গেছে, বিপদে পড়ার পরে টাইটানের পাওয়ার সেভ করার জন্য আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। তাই ধ্বংসের শেষ মুহূর্তে যাত্রীরা অন্ধকারেই কাটিয়েছিলেন। সঙ্গে বাজিয়েছিলেন তাঁদের প্রিয় গান। সকলেই বোধহয় বুঝতে পেরেছিলেন, মৃত্যু আসন্ন। বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবও ঘিরে ছিল সাবমেরিনটি।
কীভাবে ঘটল এমন দুর্ঘটনা, তা নিয়ে এখনও সঠিক তথ্য হাতে আসেনি তদন্তকারীদের। তবে মনে করা হচ্ছে, হয়তো প্রবল জলের চাপে তুবড়ে গিয়েছিল টাইটান। মুহূর্তেরও কম সময়ে বিস্ফোরণ ঘটে যায় শেষে এবং টাইটানের মধ্যে থাকা সমস্ত যাত্রীদের মৃত্যু হয়। এখনও পর্যন্ত পাঁচ যাত্রীর মধ্যে কারও দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দেহের অংশ লেগে থাকতে দেখা গেছে সাবমেরিনের টুকরোয়।
পাকিস্তানের ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদের স্ত্রী ক্রিস্টিয়ান একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী শাহজাদার স্বপ্ন ছিল টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাওয়া। সেই ২০১২ সালে সিঙ্গাপুরের একটি প্রদর্শনী দেখতে গিয়ে এই শখ হয় তাঁর। তবে একা নয়, স্ত্রী ক্রিস্টিনকে নিয়েই যাওয়ার কথা ছিল শাহজাদার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ক্রিস্টিন যেতে পারেননি, তাঁর বদলে যান শাহজাদার ছেলে সুলেমান। ক্রিস্টিন বলেন, 'বেরোনোর দিন ওরা প্রায় ফ্লাইট মিস করছিল। সেষ মুহূর্তে কোনও রকমে প্লেনে চড়ে। যদি মিস করত, তাহলে হয়তো ওদের যাওয়া হত না।'
একদিনে তিন কোটি! থ্রেডস কি সত্যিই 'থ্রেট' হয়ে উঠছে টুইটারের? সুবিধা দেখে খুশি গ্রাহকরা