
শেষ আপডেট: 30 May 2023 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গয়নাগাটি, টাকাকড়ি, সমস্ত কিছু চুরি করে পালাচ্ছিল চোর (thief)। ধরতে পেরে তাকে আবার গৃহস্থের বাড়ি নিয়ে এসেছিলেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু কাঁদতে থাকা চোরকে দেখে মায়া জন্মায় গৃহবধূর (woman) মনে। শেষে তাকে রীতিমতো জামাই আদর করে পেটপুরে ভাত খাওয়ালেন (meal) সেই মহিলা। তারপর সেই চোরকে যদিও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। চোরের সঙ্গে এমন মানবিক আচরণের সাক্ষী থাকল ডুয়ার্সের মালবাজার চেল কলোনি এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চেল কলোনির রাস্তা ধরে সোমবার বিকেলে এক যুবক হেঁটে যাচ্ছিল। পিঠে ছিল বিশাল আকারের একটি ভারী বস্তা। কিন্তু সেই যুবককে দেখে একেবারেই মুটে-মজুর মনে হচ্ছিল না। সঙ্গে তার চালচলনেও কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন সবাই। এরপরেই তাঁকে দাঁড় করিয়ে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। কিন্তু কাউকেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল না ওই যুবক।
শেষে অবস্থা বেগতিক বুঝে জোর করে তার পিঠের বস্তা নামিয়ে জিনিসপত্র ঘাঁটা শুরু হলেই বেরিয়ে আসে টাকাপয়সা, সোনাদানা-সহ বাড়ির নানারকম মূল্যবান জিনিসপত্র। সঙ্গে ছিল জ্যোৎস্না বর্মন নামের স্থানীয় এক মহিলার ছবি। তা দেখেই সবাই বুঝতে পারেন যে ওই ব্যক্তি চোর। নির্ঘাত চুরি করে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছিল। এরপর সবাই মিলে তাকে টানতে টানতে ওই মহিলার বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানে গিয়ে সবাই দেখেন, জ্যোৎস্না বর্মন নামের ওই মহিলা দাওয়ায় বসে কপাল চাপড়াচ্ছেন, সঙ্গে কান্নাকাটিও করছেন। এরপর কারওই আর বুঝতে বাকি ছিল না যে তাঁর বাড়িতেই চুরি হয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে চোরকে আবার জিজ্ঞাসা করতেই সে চুরির কথা স্বীকার করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এরপর গ্রামবাসীরা সবাই মিলে চোরকে ওই বাড়িতেই বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেন।
এদিকে চোরকে কাঁদতে দেখে মন কেমন করতে শুরু করে জ্যোৎস্না বর্মনের। তাকে দেখে মায়া জন্মায়। তিনি চোরকে জিজ্ঞেস করেন কিছু খেয়েছে কিনা। জবাবে সেই ব্যক্তি বলে, সে কিছুই খায়নি। এরপর ওই গৃহবধূ নিজে হাতে তাকে ভাত, কচুর শাক, ডাল, লাউ চিংড়ি বেড়ে দেন। খিদের পেটে গোগ্রাসে সমস্ত খাবার শেষ করে ওই চোর। এদিকে ততক্ষণে সেখানে চলে আসে পুলিশও। তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা ও অনেক জিনিসপত্র উদ্ধার হলেও একটি সোনার চেন পায়নি পুলিশ। এরপরই সেই চোরকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
লক্ষ্মণ শেঠ আবার বিয়ে করেছেন! হলদিয়ার একদা সম্রাটের নতুন সঙ্গিনীর ছবি দেখুন