‘পিল খাইয়ে ঋতুস্রাব বন্ধ করেছিল, খাবার দেয়নি, প্যাডও না’, করোনা-আক্রান্ত চিনে প্রতিবাদ মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিটা দিন ছিল শঙ্কার, রাত আতঙ্কের..চিনে গর্জে উঠলেন মহিলা ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীরা। আইসোলেশন ওয়ার্ডে থিকথিক করছে ভিড়। নতুন আক্রান্তদের লাইন। হাসপাতালগুলিতে রোগীদের সংক্রামিত জিনিস ছড়ানো। তার মাঝেও মুখে মাস্ক পরে চুপচাপ
শেষ আপডেট: 7 March 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিটা দিন ছিল শঙ্কার, রাত আতঙ্কের..চিনে গর্জে উঠলেন মহিলা ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীরা। আইসোলেশন ওয়ার্ডে থিকথিক করছে ভিড়। নতুন আক্রান্তদের লাইন। হাসপাতালগুলিতে রোগীদের সংক্রামিত জিনিস ছড়ানো। তার মাঝেও মুখে মাস্ক পরে চুপচাপ কাজ করে যেতে হয়েছে। ছুটি নেই, ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি। অসুস্থ হলেও মেলেনি ওষুধ, চিনের মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।
হুবেই প্রদেশে নোভেল করোনাভাইরাস তখন মৃত্যুর তাণ্ডব চালাচ্ছে। শয়ে শয়ে মৃত্যু হচ্ছে। সংক্রামিতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ভয় আর আতঙ্কে পোষ্য কুকুর-বিড়ালদেরও উঁচু বাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ছুড়ে ফেলছেন লোকজন। “হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাই কাজ। খাবার দেওয়া হচ্ছে না, সংক্রমণের ভয়ে বাথরুমেও যেতে দেওয়া হয়নি,” জানিয়েছেন সাংঘাইয়ের জিয়াং জিনজিং। শুধুমাত্র হুবেই প্রদেশেই ভাইরাস আক্রান্ত ১৭০০ স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তার। তাঁদের মধ্যে মহিলারাও রয়েছেন। মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, জোর করে তাঁদের ঠেলে দেওয়া হত আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় বন্দি করে রাখা হত সেখানে। রোগীদের চিকিৎসা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়তেন তাঁরা নিজেরাও।
“বার্থ কন্ট্রোল পিল খাইয়ে ঋতুস্রাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যাঁদের পিরিয়ড শুরু হয়েছিল তাঁদের প্যাড দেওয়া হয়নি,” ভয়ঙ্কর অভিযোগ আরও এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর। জানিয়েছেন, জোর করে পিল খাইয়ে হাসপাতাল-নার্সিংহোমের বেশিরভাগ মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের ঋতুস্রাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকার সময় বাথরুমে যেতে দেওয়া হত না। এমনকি ওয়ার্ডের বাইরেও বার হতে দেওয়া হত না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও জল না খেয়ে কাজ করতে হত।

হাসপাতালের দেওয়া নির্দিষ্ট আইসোলেশন স্যুটই পরে থাকতে হত সবসময়, জানিয়েছেন জিয়াং। কারও ঋতুস্রাব হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হত না। ন্যাপকিন বদলাবার অনুমতিও ছিল না। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শারীরিক সমস্যা শুরু হয়েছিল অনেক মহিলারই।
সাংঘাই ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ৭৯ জন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী এই অত্যাচারের অভিযোগে মুখ খুলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রায় ২০০ বোতল বার্থ কন্ট্রোল পিল পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল হাসপাতালে। সেগুলো খেতে বাধ্য করা হয়েছিল মহিলা ডাক্তার ও মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের।
উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিনের সেই হিরো ডাক্তার লি ওয়েনলিয়াঙের মৃত্যুর পরে ভাইরাস সংক্রমণের ভয় ছড়িয়েছিল ডাক্তার ও নার্সদের মধ্যে। ওই হাসপাতালের মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরাও জানিয়েছেন, এরপরের প্রতিটা দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাঁদের। হাসপাতালেই কার্যত বন্দি হয়ে গিয়েছিল জীবন। বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি কাউকে।
করোনা সংক্রমণে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন হাজার। আক্রান্ত প্রায় এক লক্ষ।বিশ্বের অন্তত ৯০টি দেশে পৌঁছে গিয়েছে কোভিড-১৯। ধস শেয়ার বাজারে। মার খাচ্ছে উড়ান সংস্থাগুলি। চিন ছাড়া পরিস্থিতি সব চেয়ে জটিল ইরান, ইটালি আর দক্ষিণ কোরিয়ায়। ভ্যাটিকান সিটিতেও মিলেছে ভাইরাস আক্রান্তের খোঁজ।