দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাওয়ে ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের মামলার রায় দেওয়া হবে আজই। ২০১৭ সালের জুন মাসে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ১৭ বছর ধরে বিধায়ক পদে থাকা কুলদীপকে।
অভিযোগ, ওই বালিকা যখন মাত্র ১১ বছরের ছিল, তখন থেকেই তাকে শারীরক ভাবে লাঞ্ছিত করত অভিযুক্ত, এমনকি এব্যাপারে কোথাও কিছু বললে ফল ভাল হবে না বলেও হুমকি দিত। তবে ঘটনার কথা জানাজানি হয়, ২০১৮ সালের এপ্রিলে, যখন ওই বালিকা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাড়ির বাইরে নিজেকে জ্বালিয়ে দেওয়ার কথা বলেন, তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের অগস্ট মাস থেকে পুলিশ তাঁর অভিযোগ নিচ্ছে না।
তারপরে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়েছে ওই বালিকার বাবার, তাঁর কাকার বিরুদ্ধে পাল্টা এফআইআর করা হয় এবং জেলের মধ্যে সেঙ্গারের শাগরেদরা তাঁকে মারধর করে।
জুলাই মাসে একটি গাড়িতে করে কাকিমা ও কৌঁসুলির সঙ্গে তিনি যখন রায় বরেলি আদালতে যাচ্ছিলেন, তখন একটি ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই নাবালিকা ও তাঁর কৌঁসুলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গুরুতর আহত অবস্থায়। কাকিমা মারা যান ওই দুর্ঘটনায়। একে ষড়যন্ত্র বলেই মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগ, ২০১৭ সালের ৪জুন ওই নাবালিকাকে সেঙ্গারের বাড়িতে নিয়ে যায় জনৈক শাস্ত্রী সিং এবং সেঙ্গার ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। এফআইআর অনুযায়ী, ওই নাবালিকা প্রতিবাদ করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়, পুরো পরিবারকে উড়িয়ে দিয়ে তাঁকেও পুঁতে দেওয়া হবে। অভিযোগ, যখন তাঁকে ধর্ষণ করা হচ্ছিল, তখন ওই বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল শাস্ত্রী।
ঘটনার সাত দিন পরে ওই নাবালিকাকে একটি এসইউভি গাড়িতে করে অপহরণ করে নিয়ে যায় তিন ব্যক্তি, সেখানে তাঁকে পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে পান করিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। আরও অভিযোগ, বারবার তাঁকে বিভিন্ন ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নাবালিকার অভিযোগ, ওই তিন ব্যক্তি সেঙ্গারের লোক ছিল এবং তারা তাঁকে বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল।
ওই নাবালিকার মা নিখোঁজের ডায়েরি করেন। অপহরণকারীরা যখন দেখল যে পিছনে পুলিশ লেগেছে, তখন তারা ওই নাবালিকাকে ফিরিয়ে দিয়ে যায়। ২০১৭ সালের ২০ জুন দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তিনজনের নাম শুভম সিং, ব্রিজেশ যাদব ও অয়োধ নারায়ণ। নাবালিকার মায়ের অভিযোগ, তিনি অপহরণের অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা না নিয়ে স্রেফ নিখোঁজের অভিযোগ নেয়।
বাড়িক ফেরার পরে তাঁকে দিল্লিতে কাকা-কাকিমার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের অগস্টের শেষ দিকে তিনি কাকীমাকে জানান সেঙ্গার ও তার শাগরেদদের দ্বারা যৌন নিগ্রহের কথা। তারপরে কাকিমাই তার বাবাকে বলেন পুলিশে অভিযোগ জানানোর কথা। ২০১৭ সালের অগস্টে তিনি সেঙ্গার ও শাগরেদদের নামে অভিযোগ করতে যান, কিন্তু পুলিশ সেই অভিযোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি স্থানীয় আদালতেও যান ওই মহিলা, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বিজেপির বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও মামলা দায়ের করেনি।
গতবছর ৮ এপ্রিল যোগী আদিত্যনাথের বাড়ির বাইরে গিয়ে তিনি নিজেকে জ্বালিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তখনই তাঁর কথা জানা যায় এবং তাঁর মা অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত করা হয় সেঙ্গার ও শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে।
তার ঠিক দুদিন আগে, ৬ এপ্রিল বিধায়কের ভাই অতুল ওই নাবালিকার বাবার উপরে হামলা করে ও পুলিশের কাছে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়।
এপ্রিল মাসেই এই মামলার দায়িত্ব নেয় সিবিআই। নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়। পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়। আলাদা ভাবে মামলা হয় তাঁর বাবার মৃত্যু নিয়ে।
আজই এই মামলার রায়।