তার নামে মমতাও নাকি চমকান, উঠে দাঁড়ান মুকুল-মদন, বালিতে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া জেলার বালি বিধানসভা এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এক তৃণমূল নেতা। একটি নির্মাণকারী সংস্থার কাছে মোটা টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এমনকি তোলাবাজির জন্য তিনি ম
শেষ আপডেট: 29 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া জেলার বালি বিধানসভা এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এক তৃণমূল নেতা। একটি নির্মাণকারী সংস্থার কাছে মোটা টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এমনকি তোলাবাজির জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এমনও নাকি বলেন যে, তাঁর নাম শুনলে মমতাও চমকে ওঠেন। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান মুকুল রায়, মদন মিত্র।
আরও পড়ুন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার পারে নির্মিয়মাণ একটি বহুতল ঘিরে গোলমালের সূত্র। বালির তৃণমূল নেতা বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বহতল নির্মাণকারী সংস্থার থেকে তোলা আদায়ের জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ। ওই নির্মাণকারী সংস্থার কর্মীদের মারধর ও গালিগালাজ করার অভিযোগও উঠেছে। এর পরেই বালি থানার পুলিশ তাঁকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে। ইতিমধ্যেই জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা শুরু করেছে পুলিশ।
একটি নির্মাণ নিয়ে বিবাদ বাঁধে বিশ্বজয় ঘোষের সঙ্গে নির্মাণকারী সংস্থার। প্রোমোটারকে টেলিফোন করে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। সেই হুমকি ফোন রেকর্ড করে পুলিশকে দেয় নির্মাণকারী সংস্থা। বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওই নেতা টেলিফোনে কথোপকথনের সময়ে এমনটাও নাকি বলেন যে, তার নাম শুনে তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চমকে ওঠেন। শুধু তাই নয়, তিনি এমটাও বলেন যে, মুকুল রায় ও মদন মিত্ররাও নাকি তাঁর কথায় তিড়িং করে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন। তাঁর কথা শোনা না হলে তিনি কী করতে পারেন তা দেখিয়ে দেবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই কথোপকথন নিয়ে হাওড়া জেলা তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। অনেকেরই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় তোলাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং সেটা দলের সকলেরই জানা। এই প্রসঙ্গে বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া বলেন, মহেশ সুরাখা নামে এক প্রোমোটার নিয়ম না মেনে গঙ্গার পার বুঝিয়ে বহুতল নির্মাণ করছিলেন। এনিয়ে এলাকার মানুষ সরব হয়েছেন। তবে বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কী বলেছেন তা তিনি জানেন না।
নির্মাণকারী সংস্থার এক কর্মী জানান, তাঁরা নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। কিন্তু বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমতি ছাড়াই নির্মিয়মাণ এলাকার ভিতরে এসে ছবি তুলতে থাকেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে নিজের ক্ষমতা দেখাতে থাকেন। অন্য দিকে, বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, গঙ্গার পারে নিয়ম ভেঙে বহুতল নির্মাণ হচ্ছে। সেটা জানতে পেরেই তিনি ঘটনাস্থলে যান। এর প্রতিবাদ করেন। টাকা পয়সা কিছুই চাওয়া হয়নি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মুকুল রায় ও মদন মিত্র সম্পর্কে সেভাবে কিছু বলেননি বলেও দাবি করেছেন। বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, গঙ্গার পারে নিয়ম ভেঙে বহুতল বানাতে দেখলে মুখ্যমন্ত্রী রেগে যাবেন।