দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি : কোন্নগর শ্যুট আউটের পর কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। সময় যত এগোচ্ছে, পুলিশের হাতে আসছে আরও তথ্য। গোটা ঘটনাকে 'প্রেমে পাগল যুবকের প্রতিহিংসা' বলেই মনে করছে হুগলি পুলিশের একটা বড় অংশ।
সুলতান আর শুভলগ্নার সম্পর্ক ঠিক কত দিনের?
স্থানীয়রা বলছেন, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল শুভলগ্না এবং সুলতানের। ২০১৪ সালে রেজিস্ট্রি করে বিয়েও করেন তাঁরা। তবে সুলতান ও শুভলগ্নার পরিবার সে খবর জানত না। কারণ, শুভলগ্নার পরিবার প্রথম থেকেই তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তাই রেজিস্ট্রির কথা গোপন করেছিলেন তাঁরা। এলাকাবাসীর মতে, শুভলগ্না এই সম্পর্ক থেকে বেরোতে চাইছিলেন। সামাজিক সম্মানের কথা ভেবেই কোন্নগর পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার তুষার চক্রবর্তীর মেয়ে শুভলগ্না সম্পর্কে ছেদ টানলেও মেনে নেননি সুলতান। যেখানেই তরুণীর বিয়ে ঠিক হতো সেখানেই পৌঁছে যেতেন ইমারত দ্রব্যের কারবারি এই যুবক। জানিয়ে দিতেন তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে শুভলগ্নার। কয়েক মাস আগে ম্যারেজ সার্টিফিকেটের ছবিও পোস্ট করেন ফেসবুকে। সম্প্রতি কলকাতার শ্যামবাজারে বিয়ে ঠিক হয় শুভলগ্নার। সেই ছেলের বাড়িতে গিয়েও ভাংচি দেন সুলতান।
সুলতানের সঙ্গে রেজিস্ট্রি হলেও একদিনও তাঁর সঙ্গে থাকেননি শুভলগ্না। এমনটাই দাবি তরুণীর পরিবারের। শ্রীরামপুর আদালতে মামলাও করেছিল শুভলগ্নার পরিবার। কিন্তু তাতেও দমানো যায়নি এই যুবককে। বছর দেড়েক আগে অলিম্পিক মাঠের কাছে শুভলগ্নাদের বাড়িতে চড়াও হয়েছিলেন সুলতান। থানায় অভিযোগ করলে গ্রেফতারও করা হয় তাঁকে। বেশ কয়েক দিন জেলে থাকার পর বেরিয়ে এসে ফের শুভলগ্নার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেন বলে জানা গিয়েছে।
সুলতানের বন্ধুরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ কোন্নগর রবীন্দ্র ভবনের সামনে এসেছিলেন সুলতান। মিনিট দশেক থেকেই চলে যান। এরপরই জানা যায় শুভলগ্নাকে গুলি করেছেন তিনি। গোটা ঘটনায় হতভম্ব এলাকার লোক। সুলতান যে গুলি করে কাউকে মেরে ফেলতে পারেন, তা কল্পনাও করতে পারছে না তাঁর প্রতিবেশীরা।
এ দিকে সুলতানের বাবা শেখ ইসলাম আলির দাবি, তাঁর ছেলে যা উপার্জন করত তার সবটাই খরচ করত শুভলগ্নার জন্য। ভিন্ ধর্মে বিয়ে হলে সামাজিক সম্মান হারাতে হতে পারে, এই আশঙ্কায় কোন্নগরে জিটি রোডের ধারে একটি বাড়িও ভাড়া করেছিলেন সুলতান। সুলতানের বাবা বলেন, শুভলগ্নার ভাই শুভায়ু তাঁদের বাড়িতে আসতেন। শুভায়ু কুয়েতে যাওয়ার সময় দু'লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক থেকে লোন করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন বৃদ্ধ ইসলাম আলি। তাঁর দাবি, তিনি হাজারবার ছেলেকে বুঝিয়েছেন এই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে। কিন্তু কথা শোনেনি ছেলে।
কিন্তু নাইন এম এম পিস্তল পেলেন কোথায় সুলতান? এটাই এখন তদন্ত করে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশের সন্দেহ, কোন্নগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সমাজবিরোধীদের দাপট। একটা সময় ছিল যখন সন্ধেরাতেও বোমা, গুলির শব্দ শোনা যেত এই এলাকায়। হুগলির ত্রাস হুব্বা শ্যামলের এলাকা কখনওই ফাঁকা থাকেনি। হুব্বা খুন হয়ে যাওয়ার পর কোন্নগরের নতুন ত্রাস হিসেবে প্রশাসনের ঘুম ছুটিয়ে ছেড়েছিল 'মারাদোনা' নামের এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী। সুলতান এরকমই কোনও সমাজবিরোধীর থেকে বন্দুক পেয়েছে, নাকি বাইরে থেকে কিনে এনেছে, সেই বিষয়েই পরিষ্কার হতে চাইছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে শ্রীরামপুর আদালতে সুলতানকে তোলা হলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।