দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জঙ্গি আন্দোলনের চেনা পথেই ফিরে গেলেন বর্ধমানের বামেরা। শনিবার এআইকেসিসির যুক্তমঞ্চের ডাকে একঘণ্টা জাতীয় সড়কে অবরোধ করলেন তারা। এই অবরোধে আটকে পড়ে রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু ও স্বপন দেবনাথের গাড়ি। স্বপন দেবনাথের গাড়িতে চড়চাপড় মারা হয়। পুলিশ কোনোক্রমে সুজিত বসুর গাড়ি পার করে দেন। দুই মন্ত্রীই অবশ্য এর কোনও নিন্দা করেননি। তবে দুই মন্ত্রীই জানিয়েছেন মমতাই প্রথম কৃষি বিলের বিরুদ্ধে সরব হন।
শনিবার গোটা রাজ্যের মতো বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের নবাবহাট মোড়েও কেন্দ্রীয় কৃষি বিলের প্রতিবাদে কৃষকসভা রাস্তা অবরোধ করে। প্রথমে অবরোধে আটকে পড়েন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁকে ঘিরেও কৃষক সভার সদস্যরা বিক্ষোভ দেখায়। পুলিশ কোনওরকমে দমকলমন্ত্রীর কনভয় পার করে দেয়। কিছুক্ষণ পর রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ও প্রাণী সম্পদ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথেরও গাড়িও অবরোধের জেরে নবাবহাট মোড়ে আটকে যায়।
স্বপন দেবনাথের গাড়ি আটকে চরম বিক্ষোভে সামিল হয় কৃষকসভা। তাঁর গাড়িতে ধাক্কা ধাক্কাধাক্কি করা হয়। তাঁর গাড়ির সামনে ‘চাল চোর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় জাতীয় সড়কে। পুলিশ চেষ্টা করেও মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কনভয় পার করতে পারে নি। অবরোধকারীরা রীতিমতো স্বপন দেবনাথের গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি দেয়।
এদিন পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদে নবনির্মাণ দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন দুই মন্ত্রী সুজিত বসু ও স্বপন দেবনাথ। অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় মন্ত্রীদের। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘‘আন্দোলন আমরাও করছি কেন্দ্রীয় কৃষি বিলের বিরুদ্ধে। কিন্তু এরকম বিক্ষোভ নয়। এ রাজ্যে আর দেশে আমরা প্রথম থেকে এই এই বিলের বিরোধিতা করেছি। এই শীতে যেভাবে কৃষকেরা রাস্তায় থেকে আন্দোলন করছেন তাতে আমরাও পাশে আছি।’’
মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রী টানা আন্দোলন করেছেন কৃষি আইন নিয়ে। আমরাও করছি। আমরা এই বিলের বিপক্ষে। তবে একদিনের অবরোধে আর কীই বা লাভ হবে।’’
অন্যদিকে জেলা কৃষকসভার সম্পাদক সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘‘মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী এই আইন। গোটা দেশেই আজ আন্দোলন চলছে। আজ আমরা কিছু দেখিনি। কোথায় গাড়ি আটকেছে আমরা দেখিনি।’’ ঘণ্টাখানেক অবরোধ চলার পর পুলিশে হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।