দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দু’লক্ষাধিক টাকার বিল বাকি। বারবার তাগাদার পরও বিল মেটানো হয়নি। বাধ্য হয়ে বর্ধমান জেলা আদালতে আনা অভিযুক্তদের খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদার সংস্থা। ফলে খাবার পাচ্ছে না অভিযুক্তরা।
খাবার না পেয়ে আদালতের লকআপে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা। অনেকে খাবারের জন্য লকআপ ইনচার্জকে অনুরোধ করছেন। বিষয়টি অমানবিক বলে মন্তব্য করেন আইনজীবীরা। যদিও আদালত কর্তৃপক্ষ টাকা বরাদ্দ না হওয়ার কথা জানিয়েই কেবল দায় সেরেছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক পার্থ হাটি বলেন, ‘‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে, আদালতের লকআপে অভিযুক্তদের খাবার না মেলা অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’’
আদালত লকআপে অভিযুক্তদের দুপুরে খাবার দেওয়া হয়। তার জন্য সরকারি বরাদ্দও রয়েছে। আদালতে পেশ করার আগে সংশোধনাগার থেকে আসা অভিযুক্তদের খাবার খাইয়ে নিয়ে আসা হয়। তারা বিকেলে বরাদ্দ করা খাবার খায়। কিন্তু, যাদের থানা থেকে সরাসরি আদালতে পেশ করা হয়, তাদের অনেক সময় খাবার জোটে না। সাধারণত সকালে থানা লকআপে সামান্য পরিমাণ খাবার দেওয়া হয় ধৃতদের। আদালতে পেশ করার পর দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। আদালতের লকআপে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে একটি ঠিকাদার সংস্থা।
অভিযোগ, প্রায় ৭ মাসের পেমেন্ট পায়নি সংস্থাটি। বছরের শেষের দিকে বিল না মেটালে খাবার সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয় সংস্থাটি। তারপরও পেমেন্ট না মেলায় ১ জানুয়ারি থেকে খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সংস্থাটি। আদালতের এক কর্মী বলেন, ‘‘ঠিকাদার সংস্থাটি ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার বেশি পাবে। এ ব্যাপারে জেলা জজ ও সিজেএমকে জানানো হয়েছে। তারপরও পেমেন্ট পায়নি ঠিকাদার সংস্থা। সেজন্য তারা চিঠি দিয়ে খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।’’
এক বন্দির বক্তব্য, বাইরে থেকে লকআপে খাবার দেওয়া হয় না। পরিবারের লোকজনকেও খাবার দিতে দেওয়া হয় না। অথচ, আদালত কর্তৃপক্ষ খাবার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সংশোধনাগারে পৌঁছাতে মাঝেমধ্যেই রাত হয়ে যায়। ফলে, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। খাবার পাওয়া ধৃতদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। আদালতেই মৌলিক অধিকার খর্ব হচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। ঠিকাদার অলোক আশ বলেন, ‘‘লকডাউনের সময়েও অনেক কষ্ট করে খাবার দিয়েছি। লকডাউনের কারণে ব্যবসায় মন্দা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে বিলের টাকা মেটানো হচ্ছে না। এনিয়ে চিঠি দিয়েছি। বাধ্য হয়ে খাবার সরবরাহ করা বন্ধ করে দিয়েছি। অভিযুক্তদের সমস্যাটা বুঝতে পারছি। এছাড়া আমার সামনে কোনও পথ খোলা ছিল না। আমাকেও ধারে মাল কিনতে হয়। আর কেউ ধারে মাল দিতে চাইছে না।’’