দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: প্রথা মেনে মাছের মেলা করে মাঘবরণ হল দেবানন্দপুরের কেষ্টপুরে। রুই-কাতলা-ইলিশ- ভেটকি- চিংড়ি, কী নেই সেখানে ! ৫১৩ বছরের পুরনো মাছের মেলা ঘিরে মেতে উঠল গোটা তল্লাট।
চৈতন্য মহাপ্রভুর অন্যতম প্রধান শিষ্য রঘুনাথ দাস গোস্বামীর বাড়িতেই বসে এই মাছের মেলা। আর তাকে ঘিরে কত গল্প, কথা আর ইতিহাস।
আদিসপ্তগ্রামের রাজার একমাত্র পুত্র ছিলেন বৈষ্ণব চূড়ামণি রঘুনাথ দাস গোস্বামী। বিপুল ঐশ্বর্য্য আর জাগতিক সমস্ত সুখকে হেলায় ছেড়ে চৈতন্যদেবের অনুগামী হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস পরে যখন ঘরে ফিরলেন তিনি, তাঁকে দেখতে ভিড় উপচে পড়ে রাজার বাড়িতে। ভক্তরা তাঁকে পরীক্ষার জন্য কাঁচা আমের ঝোল ও ইলিশ মাছ খাওয়া আবদার করেন।
তখন নাকি তিনি বলেন বাড়ির পাশে জোড়া আম গাছ থেকে আম পেড়ে আনতে আর মাছের জন্য পাশের জলাশয়ে জাল ফেলতে। তাঁর কথা মতোই সেই ঘোর শীতে মেলে আম আর জোড়া ইলিশ। আদি সপ্তগ্রামের মাছের মেলার সেটাই সূচনা।
এখনও প্রতি বছর ভক্তরা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি মাছের মেলার আয়োজন করেন রঘুনাথ দাস গোস্বামীর ভিটেতে। পয়লা মাঘ হয় একদিনের এই উত্তরায়ন মেলা। প্রায় ৫০ জন মাছ ব্যবসায়ী মাছ নিয়ে আসেন এখানে। পুকুরের মাছ ছাড়াও থাকে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের পসরা। হুগলির বাইরে বর্ধমান, হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বহু মানুষও আসেন ওই ঐতিহ্যের মেলায়। অনেকেই যেমন মাছ কিনে নিয়ে বাড়ির পথ ধরেন, তেমনি পাশের আম বাগানে মাছ ভেজে পিকনিকের আয়োজনও করেন কেউ কেউ।
https://www.youtube.com/watch?v=bFK3iHd_6bY