দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: লাগাতার হাতির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে সোনামুখীর আলুচাষিরা। গত কয়েকদিন ধরে সোনামুখী জঙ্গলে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পঞ্চাশটি বুনো হাতির একটি দল। সন্ধ্যা হলেই হাতির দলটি লোকালয় লাগোয়া ফসলের খেতে ঢুকে মাঠের ফসল নষ্ট করছে।
পূর্ব নবাসন পঞ্চায়েতের শালদহ গ্রামে বিঘার পর বিঘা আলুর জমি হাতির দল নষ্ট করায় মাথায় হাত পড়েছে আলুচাষিদের। সোনামুখী জঙ্গল লাগোয়া মাস্টারডাঙা গ্রামেও বিঘার পর বিঘা আলু নষ্ট করেছে হাতির দলটি। পাশাপাশি গম ও সরষে খেতেও তাণ্ডব চালাচ্ছে হাতির দলটি। স্থানীয় কৃষকরা বন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বন দফতর সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না যার কারণে হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করে ফসলের এত ক্ষতি করছে। বাপ্পাদিত্য ঘোষ নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, ‘‘এর আগেও বহুবার আমাদের ফসলের ক্ষতি করেছে হাতির দল কিন্তু আমরা কখনই আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাইনি। আবারও কয়েকদিন ধরে লাগাতার হাতির দলটি ফসলের ক্ষতি করছে। বন দফতরের গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটছে।’’ এবার তাঁরা ফসলের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছেন।
এ বছর এমনিতেই আলু বীজের দাম অত্যধিক হওয়ায় আলু চাষ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে আলুচাষিদের। বর্তমানে আলুর দাম নেই তার উপর হাতির উপদ্রবে জমির আলু জমিতেই নষ্ট হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে আগামী দিনে সংসার চলবে কীভাবে তাই ভেবে রাতের ঘুম ছুটেছে তাঁদের। কেউ আবার ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছেন দুটো বাড়তি পয়সা রোজগারের আশায়। কিন্তু সব আশা ভরসা শেষ হয়ে যাচ্ছে হাতির উৎপাতে।
আলুচাষি চুনারাম মুর্মু, মঙ্গল মুর্মুরা বলেন, ‘‘ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছি কিন্তু হাতির উপদ্রবে সব নষ্ট হয়ে গেল। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করবো তাই ভেবে কুল পাচ্ছি না। সারা বছর চাষবাস করে আমাদের সংসার চলে। এখন বন দফতর কবে এর ক্ষতিপূরণ দেবে তাও বুঝে উঠতে পারছি না।’’
সোনামুখী রেঞ্জ অফিসার দয়াল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘যে সমস্ত চাষির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেওয়া হবে। তবে বন দফতর সদা সতর্ক রয়েছে যাতে করে হাতিগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায়।’’